সংবাদদাতা , ঝালদা: পুরুলিয়া জেলাজুড়ে কুড়মি আবেগকে হাতিয়ার করতে গিয়ে এবার ঘরের মাঠে প্রবল বিদ্রোহের মুখে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রভাবশালী নেতা তথা ‘মূল মান্তা’ অজিত প্রসাদ মাহাতর পুত্র বিশ্বজিৎ মাহাতোর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে এর প্রতিবাদে কোটশিলায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখায় দলের একাংশ।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী নরহরি মাহাত বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান বিধায়কের কাজে দলের অন্দরেই ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। কিন্তু, দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মীদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি এক কুড়মি নেতার ছেলেকে টিকিট দেওয়ায় মানতে পারছেন না নীচুতলার কর্মীরা।
বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের মূল আপত্তির জায়গাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। স্থানীয় নেতা রবিন সিংহদেও সোজাসুজি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আগেই বলেছিলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু বিশ্বজিতের বাবা অজিত মাহাত বিগত দিনে একাধিকবার হিন্দু ধর্মের উপর আঘাত হেনেছেন। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, কুশপুতুল দাহ করেছি। এখন তাঁর ছেলেকেই প্রার্থী করলে আমরা কোন মুখে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাব? আমরা সনাতনী ধর্মে বিশ্বাসী, তাই এই প্রার্থীকে কোনোভাবেই সমর্থন করা সম্ভব নয়।
এদিন সকালে কোটশিলা পার্টি অফিসে তালা ঝোলানোর সময় কর্মীদের মুখে স্পষ্ট ছিল বঞ্চনার সুর। তাঁদের সাফ কথা, প্রার্থী পছন্দ হয়নি বলেই এই পদক্ষেপ। তবে এনিয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে চায়নি উপস্থিত স্থানীয় নেতৃত্ব। টিকিট না পেয়ে বিদায়ী বিধায়ক নরহরি মাহাত সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
যদিও এই বিদ্রোহকে আমল দিতে নারাজ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি শংকর মাহাত বলেন, আমার কাছে তালা ঝোলানোর কোনো খবর নেই। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত এই বিক্ষোভের দায় তৃণমূলের উপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন, দলের মধ্যে কারও কোনো অপছন্দ হয়নি। এটা তৃণমূলেরই অপছন্দ হয়েছে। জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি গৌরব সিং বলেন, তৃণমূলের কেন অপছন্দ হবে, তৃণমূল কেন ভয় পাবে? তৃণমূল যদি ভয় পেত তাহলে তো তৃণমূলের পার্টি অফিস বন্ধ হত। ওরা নিজেরা প্রার্থী দিতে পারেনি তাই ওদের লোকজন পার্টি অফিসে তালা মেরেছে। এবার জয়পুরে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। • নিজস্ব চিত্র