Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাত্র ৫০ হাজার টাকার হিসেব চেয়ে পরপর চিঠি কেন্দ্রের, ‘অন্য উদ্দেশ্য’ দেখছে নবান্ন

মানব পাচার রোধের উদ্দেশ্যে অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট তৈরির জন্য কেন্দ্র টাকা বরাদ্দ করেছে। পশ্চিমবঙ্গও পেয়েছে সেই বরাদ্দ।

মাত্র ৫০ হাজার টাকার হিসেব চেয়ে পরপর  চিঠি কেন্দ্রের, ‘অন্য উদ্দেশ্য’ দেখছে নবান্ন
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মানব পাচার রোধের উদ্দেশ্যে অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট তৈরির জন্য কেন্দ্র টাকা বরাদ্দ করেছে। পশ্চিমবঙ্গও পেয়েছে সেই বরাদ্দ। কিন্তু তার মধ্যে  মাত্র ৫০ হাজার টাকার হিসেব না আসায় রাজ্যকে বারবার চিঠি দিচ্ছে দিল্লি। ইতিমধ্যে ১০টি চিঠি এসে পৌঁছেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। হিসেব দেওয়া হবে বলে রাজ্যের তরফে জানানো হলেও বারবার একই চিঠি পাঠানোর কারণ কী, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে জল্পনা বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যকে চাপে রাখার জন্যই কেন্দ্র বারবার চিঠি পাঠিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পালটা প্রশ্ন উঠছে, হিসেব নিতে যতটা তৎপরতা দেখাচ্ছে কেন্দ্র, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে তাদের সেই সক্রিয়তা কোথায় যায়?

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সমস্ত রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির জন্য মন্ত্রক অর্থ দেবে বলে জানায়। সেই টাকায় প্রতিটি ইউনিটে ক্যামেরা, নথি সংগ্রহের জন্য গাড়ি কেনার পাশাপাশি তদন্তকারী অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে দ্রুত অপারেশন চালিয়ে মানব পাচার রোধ করা যায়। এই ইউনিট বিভিন্ন এনজিও সহ অন্যান্য উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।

সেই মতো এই ইউনিট গড়তে ২০২০ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্র ২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা পাঠায়। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই টাকায় ইউনিটও গড়ে তোলা হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন চালিয়ে নারী ও শিশু পাচার রোধে কাজ করে চলেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মানব পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যদের। পাশাপাশি এই অপরাধ মোকাবিলায় ক্রমাগত ইনপুট সংগ্রহ করে চলেছেন তদন্তকারীরা। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের থেকে পাওয়া টাকার ২ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫০ হাজারের হিসেব জমা দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই। রাজ্যের দেওয়া ইউটিলাইজেশন সাটির্ফিকেটে সন্তুষ্টও হয় দিল্লি। তারপরও বাকি ৫০ হাজার টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে ক্রমাগত চাপ দেওয়া শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের তরফে বারবার জানানো হয়, কাজ হয়ে গিয়েছে। টাকার হিসেব পাঠিয়ে দেবে তারা। কিন্তু তাতে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো থামেনি! সূত্রের খবর, ১০টি চিঠি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকার হিসেব নিয়ে কেন্দ্র বারবার ‘রিমাইন্ডার’ পাঠানোয় অনেকেই মনে করছেন, আসলে রাজ্য সরকারকে বিপাকে ফেলাই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, তাদের হিসেব চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসেই তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ