নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তিন মাসে পরপর তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক মহলে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বেসরকারি বাজারগুলির সঙ্গে বৈঠক করছে উত্তর দমদম পুরসভা। বাজারগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা বসানো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপক বসানোর কথা উঠেছে আলোচনায়। ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিচ্ছে পুরসভা। অগ্নিদগ্ধ যদুবাবুর বাজার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে নতুন করে।
বিরাটি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নভেম্বর থেকে পরপর তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২৯ নভেম্বর বিরাটির মধ্য নীলাচলে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ছ’টি দোকান ও ঘর ভস্মীভূত হয়। ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরসভার যদুবাবুর বাজার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। দুই শতাধিক দোকান পুড়ে যায়। কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি। ৭ ফেব্রুয়ারি স্টেশন লাগোয়া দু’টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়। বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলে। এরপর বাজারগুলির অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিরাটি স্টেশন ও আশপাশের এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এলাকাটি ঘিঞ্জি। সারি দিয়ে রয়েছে ছোট-বড়ো দোকান। তার মধ্যে রান্না করা খাবারও বিক্রি হয়। বিরাটি ছাড়াও নিমতা সহ শহরে ছোট-বড়ো মিলিয়ে ৩০টিরও বেশি বাজার রয়েছে। প্রতিটি বাজারের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার হাল খারাপ বলে অভিযোগ। তাই বাজারগুলির কর্তৃপক্ষকে ডেকে আলাদা করে বৈঠক করছে পুরসভা। উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস এ বিষয়ে বলেন, ‘বারবার আগুন লাগায় আমরাও উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’ তিনি জানান, যদুবাবুর বাজারটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। জলের ব্যবস্থা, গোডাউন, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা, শৌচালয়, আবর্জনা সংগ্রহের পৃথক বন্দোবস্ত হয়েছে। বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন দোকান বাজারের ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে অগ্নিসুরক্ষার দিকে। শহরের অন্যান্য বাজার ব্যক্তি মালিকানাধীন। সেখানেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।