নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের জন্য ‘ফিল্ড সার্ভে’ শুরু হয়ে গেল। আজ, মঙ্গলবার থেকে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত সরেজমিনে সমীক্ষা চলবে। সোমবার পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডের তৈরি করে দেওয়া ডিলিমিটেশন কমিটি প্রথম বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে বরোভিত্তিক ডিলিমিটেশন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ২০০টি ওয়ার্ড করা হবে। পুনর্বিন্যাসের এই কাজ শেষ করে আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত ড্রাফট বা খসড়া পাঠিয়ে দিতে হবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। ৩১ জুলাই সেই প্রস্তাবিত খসড়া প্রকাশ করবে দপ্তর। তারপর আম জনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সংযোজন, সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়টি সরকারিভাবে জানিয়ে দেন পুর প্রশাসক। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার যে আয়তন, তাতে কোনো বদল হচ্ছে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন ওয়ার্ডের অঞ্চল পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে বিধানসভা এলাকারও কোনো বদল হবে না। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা উদাহরণ দিয়ে জানাচ্ছেন, কোনো বিধানসভা অঞ্চলের একটি ওয়ার্ড ভেঙে যদি দু’টি করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই দু’টি ওয়ার্ডই ওই বিধানসভার মধ্যে থাকবে। আরও ঠিক হয়েছে, একটি বুথ ভেঙে দু’টি ওয়ার্ডে ঢোকানো হবে না। কোনো বুথ যদি ভাঙা হয়, সেক্ষেত্রে একই ওয়ার্ডেই রাখতে হবে দু’টি অংশকে।
পুনর্বিন্যাসে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও আপাতত বরোর মোট সংখ্যা বাড়ানো হবে না। এক পুরকর্তা বলেন, ‘আমাদের বলে দেওয়া হয়েছে, ১৬টি বরোই থাকবে। বরো ভাঙা বা নয়া বিন্যাস হবে না। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বরোর অধীনে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়বে। ডিলিমিটেশনের পর এক-একটি বরোয় ১২-১৩টি করে ওয়ার্ড থাকতে পারে।’
তবে এত কম সময়ে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মতো কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, আরও সময় নিয়ে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এই কাজ করা যেত। সেক্ষেত্রে আরও নিখুঁত ও নির্ভুল ডিলিমিটেশন হত। ডিলিমিটেশনের পরই কলকাতায় পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে গিয়েছে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড।