Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতার পাঁচ থানার সীমানা পুনর্বিন্যাস, নজরদারির খামতি ঢাকতে পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার এলাকা বৃদ্ধি

পরপর দু’টি ঘটনা! পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায় হোটেলের ঘরে নৃশংস খুন। আলিপুর থানা এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু

কলকাতার পাঁচ থানার সীমানা পুনর্বিন্যাস, নজরদারির খামতি ঢাকতে পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার এলাকা বৃদ্ধি
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরপর দু’টি ঘটনা! পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায় হোটেলের ঘরে নৃশংস খুন। আলিপুর থানা এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু। দুই রহস্যজনক ঘটনার পর শহরের পাঁচটি থানার সীমানা পুনর্বিন্যাস করল লালবাজার। পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মার নির্দেশে আলিপুর ও পার্ক স্ট্রিট থানার সীমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকার কিছু অংশকে আলিপুর থানার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া নিউ মার্কেট থানার বেশ কিছুটা অংশ আনা হয়েছে পার্ক স্ট্রিট থানার অধীনে। সীমানা বিন্যাসের পর পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার নতুন ম্যাপও প্রকাশ করেছে কলকাতা পুলিশ। 

Advertisement

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় জাদুঘর ছিল নিউ মার্কেট থানার অধীনে। সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট সহ পার্ক স্ট্রিট লাগোয়া একাধিক এলাকা নিউ মার্কেট থানার মধ্যেই ছিল। কিন্তু এসব এলাকা পার্ক স্ট্রিট থানা থেকেই কাছে হয়। নীচুতলার পুলিশকর্মীরা বলছেন, ধর্মতলা ও লেনিন সরণি সংলগ্ন এলাকায় বছরভর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ডিউটি লেগে থাকে। সেখানেই থানার সিংহভাগ ফোর্সকে ব্যস্ত থাকতে হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে নিউ মার্কেটে ভিড়ের চাপ। সেখানেও দিনে তিনবার করে টহলদারি চালায় নিউ মার্কেট থানা। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মূল্যায়ন, এরকম একাধিক কারণে জাদুঘর, সদর স্ট্রিট, কুই লেন, লিন্ডসে স্ট্রিট ইত্যাদি এলাকায় নিউ মার্কেট থানার নজরদারিতে কিছুটা খামতি থেকে যাচ্ছে। যদিও এলাকাগুলি পার্ক স্ট্রিট থানা থেকে কাছে। এই প্রেক্ষিতে এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য গত ক্রাইম মিটিংয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন সিপি। সূত্রের খবর, এরপরেই কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিউ মার্কেট থানার প্রায় ৬০০ বর্গ মিটার এলাকা পার্ক স্ট্রিট থানার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। 
অন্যদিকে, একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানার একটি বিরাট অংশকে আলিপুর থানার আওতায় আনা হয়েছে। চিড়িয়াখানার সামনের রাস্তা আলিপুর রোড ছিল আলিপুর থানার সীমানা। চিড়িয়াখানার ভিতরের অংশ ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকার মধ্যে পড়ত। অন্যদিকে, জিরাট ব্রিজ সংলগ্ন অরফ্যানগঞ্জ রোড, খিদিরপুর বাজার, মনসাতলা লেন, একবালপুর রোড, ইব্রাহিম রোড চত্বর ছিল একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানার মধ্যে। সিপির নির্দেশের পর এই গোটা এলাকা এখন থেকে আলিপুর থানার অন্তর্গত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, খোদ একবালপুর থানার বিল্ডিংটিও এখন আলিপুর থানার মধ্যে! সেখানে কোনও অপরাধ ঘটলে তদন্তের ভার যাবে আলিপুর থানার হাতে। তবে একবালপুর থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে একবালপুর রোড ও ডায়মন্ডহারবার রোড ক্রসিং। এই অংশটিও কেন আলিপুর থানার আওতায় আনা হল, তা স্পষ্ট নয়। লালবাজারের দাবি, নজরদারি বৃদ্ধির জন্যই এই পুনর্বিন্যাস। কিন্তু এক থানার বিল্ডিং অন্য থানার আওতায় নিয়ে আসার নেপথ্যে অদৃশ্য শক্তি নেই তো? প্রশ্ন পুলিশের অন্দরেই! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ