নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উন্নত পরিষেবা প্রদানই লক্ষ্য। তাই এলাকা পুনর্বিন্যাস করে বাড়ানো হবে রাজ্যের মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের (জিপি) সংখ্যা। শীঘ্রই এ সংক্রান্ত সমীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে মূলত জনসংখ্যা এবং আয়তনের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা ভাবা হচ্ছে। যেসব গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জনসংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি, সেগুলি ভেঙে একাধিক জিপি করা হবে। আবার যেসব পঞ্চায়েতে ২০টির বেশি সংসদ বা গ্রাম রয়েছে, সেগুলি ভেঙেও নতুন জিপি তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে রাজ্যের মোট ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে নজরে রয়েছে ৯৯০টি। এই পঞ্চায়েতগুলির এলাকা পুনর্বিন্যাসের ফলে রাজ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ৩৭৮ থেকে ৫০৪টি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
পূর্বতন সরকারের আমলেই কেন্দ্র অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা টেনে বাংলায়ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছিল। প্রাথমিক কাজ কিছুটা এগলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্পন্ন করা যায়নি। কারণ, নতুন গ্রাম পঞ্চায়েত তৈরির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন পড়ে। রাজ্যে পালাবদলের পর আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তেমন না থাকায় পুরো মাত্রায় এই কাজে নামা হচ্ছে বলে খবর। তথ্য বলছে, রাজ্যে ৯৯০টি এমন গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যেখানে আছে ২০টির বেশি সংসদ। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সর্বোচ্চ ৩০টি সংসদের বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে ২০টির বেশি হলেই বড়ো পঞ্চায়েত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, ৯২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জনসংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। এই পঞ্চায়েতগুলিকে ‘ঘনবসতিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আয়তন ও জনসংখ্যা, দু’ক্ষেত্রেই বড়ো জিপি’র সংখ্যা প্রায় ৭৮০। এই জিপিগুলি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকতে চলেছে। এছাড়াও কিছু গ্রাম পঞ্চায়েতকে ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে পুনর্বিন্যাসের আওতায় আনা হতে পারে।
সেই সঙ্গে একাধিক ব্লক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসনিক মহল। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি ব্লকে গড়ে মাত্র ১০টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। সেখানে গুজরাতে এই সংখ্যা ৫৯, মহারাষ্ট্রে ৮০, মধ্যপ্রদেশে ৭৪ এবং উত্তরপ্রদেশে ৭০। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে আছে ৩৪৫টি ব্লক (পঞ্চায়েত সমিতি)। দেখা যাচ্ছে, অনেক রাজ্যে ব্লকের সংখ্যা কম হলেও পঞ্চায়েতের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৬৩টি ব্লকে ১২টির বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। যেমন, দার্জিলিংয়ের পুলবাজার ব্লকে ২৩টি, বারুইপুর ১৯টি, ডোমজুড় ১৮টি, কালিম্পং-১ এবং ধনিয়াখালি ব্লকে ১৮টি, বহরমপুর ১৭টি, ময়নাগুড়িতে ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ জেলায় একাধিক বড়ো ব্লকের নাম রয়েছে তালিকায়।