


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সংস্কারের জন্য শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বেলঘরিয়া রেল ওভারব্রিজে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হল। বিকল্প পথ হিসেবে দুই ও চার নম্বর রেলগেট দিয়ে ছোটো গাড়ি যাতায়াত করবে। বাস, লরি সহ সমস্ত বড় গাড়ি বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সোদপুর ফ্লাইওভারের সংস্কারের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আজ, শনিবার ও রবিবার ব্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। তাছাড়া, ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ওভারব্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই দু’টি ব্রিজ বন্ধ থাকায় উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে আম জনতার দুর্ভোগ চরমে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোদপুর ফ্লাইওভারের মতো বেলঘরিয়া ফ্লাইওভারও উত্তর শহরতলির অন্যতম লাইফলাইন। বি টি রোড থেকে এম বি রোডের মধ্যে অবস্থিত এই ফ্লাইওভার দিয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ও বিরাটি যাওয়া যায়। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের পাশাপাশি প্রতিদিন কয়েকশো পণ্যবাহী গাড়ি, ২০১ রুটের বাস সহ বহু ছোটো-বড়ো গাড়ি যাতায়াত করে। বহু বছর এই ফ্লাইওভারের সংস্কার হয়নি। মোট ১২ টি গার্ডার পরিবর্তন সহ ব্রিজের সার্বিক সংস্কারের জন্য শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা ও পুলিশের তরফে এলাকায় মাইকিং ও ব্যানার লাগিয়ে বিকল্প রাস্তা ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বি টি রোড থেকে চার নম্বর রেলগেট হয়ে এম বি রোডের কালচার মোড়ে উঠতে হবে। উলটো দিকে কালচার মোড় থেকে ২ নম্বর রেলগেট ও নীলগঞ্জ রোড হয়ে বি টি রোডে আসতে হবে। কিন্তু এই দুই রেলগেটে যান চলাচলের পরিসর বেশ ছোটো। তাই ছোটো গাড়ি, বাইক ও সাইকেল ছাড়া বড়ো গাড়ি ও বাস যাতায়াত করতে পারবে না। তাই ২০১ রুটের বাস ও নিমতা-হাওড়া মিনিবাস নিমতা থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ও বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঘোরানো হবে। এরপর দক্ষিণেশ্বর থেকে ডানলপ হয়ে বি টি রোড ধরবে। একইভাবে সমস্ত লরিও ওই রাস্তা দিয়ে ঘোরানো হবে।
অন্যদিকে, সোদপুর ফ্লাইওভারের গার্ডার পরিবর্তনের কাজ হয়েছে। বর্তমানে ‘এক্সপ্যানশন জয়েন্ট’-এর কাজ চলছে। তাই মুড়াগাছা বা ঘোলার দিক থেকে বি টি রোডের দিকে আসা গেলেও উল্টো পথে যাওয়া যাচ্ছিল না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার সকাল থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ব্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে শেষ মুহূর্তের কাজ করা হবে। তারপর ফ্লাইওভার আংশিক খুলে দেওয়া হবে। এরপর ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি ফ্লাইওভার সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে পিচের কাজ হবে। পরে ফের এক দফায় ছুটির দিন দেখে ফ্লাইওভার বন্ধ রেখে লোড টেস্ট হবে। সেই পরীক্ষা সফল হলে ফ্লাইওভার সমস্ত গাড়ির জন্যই খুলে দেওয়া হবে। ফ্লাইওভার বন্ধ থাকাকালীন আট নম্বর রেলগেট ও রামচন্দ্রপুর রোড হয়ে আগের মতোই যাতায়াত করবে যানবাহন।