নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আগামী ১১ এপ্রিল মদনমোহন মন্দিরে কন্দর্প পুজো। এরপরের দিন সাগরদিঘিতে মদনমোহনের নৌকাবিহার। ওইদিন সন্ধ্যায় সাগরদিঘির পূর্ব দিকে থাকা এসডিও ঘাট দিয়ে মদনমোহন নৌকাবিহারে নামেন। দক্ষিণে এসপি অফিসের ঘাট ও পশ্চিমে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনের ঘাট ছুঁয়ে মদনমোহনের নৌকা গিয়ে ভিড়বে দিঘির উত্তর দিকে অবস্থিত কোর্ট ঘাটে। এই কোর্ট ঘাটেই বর্তমানে ব্যাপক সংস্কারের কাজ চলছে।
সাগরদিঘি সৌন্দর্যায়নের কাজের অঙ্গ হিসেবে পুরনো কোর্ট ঘাটটি ভেঙে নতুন করে স্টেজ ঘাটে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। ফলে নৌকাবিহার শেষে মদনমোহন এবার কোথা দিয়ে উঠবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। কাজের কারণে কোর্ট ঘাটের যা অবস্থা তাতে ঘাট দিয়ে সরাসরি দিঘির পারে ওঠা সম্ভব নয়। তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কী করা যেতে পারে? কারণ রাজ আমলের প্রাচীন রীতির কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে মদনমোহনকে কীভাবে পারে আনা হবে, তা নিয়েই এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সকলের কপালে।
কোচবিহারের মহকুমা শাসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এবিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, ওই ঘাটটি বর্তমানে ভাঙা। তাই নৌকাবিহারের দিন মদনমোহন কীভাবে পারে উঠবেন, তা নিয়ে সকলেই চিন্তায় রয়েছি।
আগামী ১১ এপ্রিল মদনমোহন মন্দিরে কন্দর্প পুজো। প্রথা অনুসারে ওই দিন মদনমোহন ভাং খেয়ে ফেলেন। এরপর বাণেশ্বর ও ষাণ্ডেশ্বর শিব মদনমোহন মন্দির আসেন। ১২ এপ্রিল তাঁরা আসবেন। ভাং খাওয়ায় বাণেশ্বর ও ষাণ্ডেশ্বর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন মদনমোহনকে প্রায়শ্চিত্ত করার। সেই অনুসারে সাগরদিঘি ঘাটে গিয়ে মদনমোহন প্রায়শ্চিত্ত করেন। এর পরেই তিনি সাগরদিঘিতে নৌকাবিহার করেন। যুগ যুগ ধরে এই প্রথা হয়ে আসছে। প্রতিবছরই নির্দিষ্ট তিথিতে কোচবিহারের মানুষ মদনমোহনের নৌকাবিহার দেখতে সাগরদিঘির পারে ভিড় জমান। নিজস্ব চিত্র।