Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মেঘ দূর করে রোদ দাও’, বিদ্যার দেবীর কাছে প্রার্থনা কুমোরটুলির

কুয়াশার বলয়। এবং মেঘ। এই দুইয়ের দাপটে আকাশ ঘোলাটে। রোদ নেই। সবমিলিয়ে জবুথবু রাজ্য। অনেকের রুটিরুজি উঠেছে শিকেয়।

‘মেঘ দূর করে রোদ দাও’, বিদ্যার দেবীর কাছে প্রার্থনা কুমোরটুলির
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুয়াশার বলয়। এবং মেঘ। এই দুইয়ের দাপটে আকাশ ঘোলাটে। রোদ নেই। সবমিলিয়ে জবুথবু রাজ্য। অনেকের রুটিরুজি উঠেছে শিকেয়। তারই একজন হল কুমোরটুলি। সামনে সরস্বতী পুজো। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন মূর্তির গায়ের মাটি শুকোতে দরকার খরখরে রোদ। কিন্তু মেঘ-কুয়াশার মায়াজাল ভেদ করতে পারছেন না স্বয়ং সূর্যদেবও। ফলে রোদ্দুর নেই। আর সরস্বতীর মাটিও শুকোচ্ছে না। মাথায় হাত কুমোরটুলির শিল্পীদের। বহুবছর হল সরস্বতী পুজোর আগে এমন আতান্তরে পড়েননি তাঁরা। 

Advertisement

এখন দিনেদুপুরেও সোয়েটার-চাদর গায়ে চাপিয়ে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা সরস্বতী তৈরি করছেন। কাজ চলছে খুব ঢিমেতালে। মঙ্গলবার পটুয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন জ্বেলে মূর্তি শুকোনোর কাজ চলছে। সরস্বতীর মুখ শোকানো হচ্ছে কাঠের আগুনে। গনগন করে জ্বলছে অঙ্গার, তার মধ্যে বসানো প্রতিমার মুখ। মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, ‘লাগাম ছাড়া ঠান্ডা। রোদ না ওঠায় শুকোনোর কাজে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সময়ে ডেলিভারি করতে হবেই। তাই আগুনে শুকোনো চলছে। এরপর পরিস্থিতি এক থাকলে কেরোসিনের পাম্প স্টোভও ব্যবহার করতে হবে।’ 
কুমোরটুলির গঙ্গাপ্রসাদ লেন, নিতাই পাল লেন, রবীন্দ্র সরণি, বনমালী সরকার স্ট্রিট, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধীর গতিতে হলেও কাজ চলছে প্রতিমা তৈরির। পায়ে প্লাস্টিক বেঁধে স্যাঁতসেতে কাদাজল, ও ভিজে বিচালির উপর দাঁড়িয়ে কাজ করছেন শিল্পীরা। বনমালী সরকার স্ট্রিটের শিল্পী দেবব্রত পাল বলেন, ‘দিনকয়েক ঠিকমতো রোদ না ওঠায় প্রবল সমস্যা হচ্ছে। বায়না নেওয়া শেষ। সময়ে উদোক্তাদের হাতে প্রতিমা দিতে হবে। তাই আগুন জ্বেলে শুকোনো হচ্ছে। ঠান্ডা বেশি বলে কাজে খুব সমস্যা।’ শিল্পী সমর পাল, বরুণ পালদের ঘরে কর্মরত কয়েকজন কারিগর বলেন, ‘এরকম জাঁকিয়ে শীত বলে ঠান্ডায় হাত কাঁপছে। প্রতিমা রং করতে বা মাটি চাপাতে বেশ সমস্যা হচ্ছে আমাদের।’ শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘আমি ১৪টির মতো সরস্বতীর মুখ কাঠের আগুনে শুকিয়েছি। আরও আটটি শুকোতে হবে। তবে কেরোসিনের চড়া দাম। তাই কাঠের আগুনেই কাজ চলছে এখন।’
কুমোরটুলি প্রতিবছর বৃষ্টি পায়। তখন কাজে সমস্যা হয়। সেই সমস্যাও উতরে যায় কুমোরপাড়া। কুমোরটুলি প্রবল গরমও পায়। তখন অল্পেতেই হাঁফ ধরে যায় শিল্পীদের। তাও সয়ে নেন কুমোররা। কিন্তু কুমোরটুলি এরকম শীত শেষ কবে পেয়েছে মনে করতে পারছে না। শীতের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ অসুরের মতো ছেয়ে রেখেছে মৃৎশিল্পীদের ঘর। তাকে দূর করতে নিত্য প্রার্থনা সরস্বতীর কাছে, ‘তোমার মর্তে আসার সময় এসে গেল। তোমায় এক্ষুণি সাজিয়ে তুলতে হবে। রাজহাঁসের পিঠে চাপিয়ে একটু রোদ্দুর পাঠাও মা।’ নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ