


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কেউ ফিজিক্সের অধ্যাপক কেউ বা রসায়নের। পিএইচডি পাশ করা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকদেরই দেখতে হবে ভোটার তালিকার নাম। নির্বাচন কমিশনের ফরমান এমনই। মাইক্রো অবর্জাভারের মতো মর্যাদার ডিউটি আগেও করেছেন তাঁরা। কিন্তু এবার তাঁদেরই করতে হবে ফাস্ট পোলিং, প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটি। আর সেই ডিউটি করতে অনিহা দেখালেই নামছে শাস্তির খাঁড়া। এখনও পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলার শতাধিক সহকারী অধ্যাপককে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরাধ, তাঁরা ভোটের ডিউটির ট্রেনিংয়ে গরহাজির থেকেছেন। এখনও পর্যন্ত জেলায় ছ’শোর বেশি ভোটকর্মীদের শোকজ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু অধ্যাপকদেরই নয়, এবার বহু সংখ্যাক মহিলা ভোটকর্মীকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। আড়াই’শো বুথে থাকবেন শুধু মহিলা ভোটকর্মীরাই। কেন এমন পরিস্থিতি? মহিলা স্বশক্তিকরণ? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পিছনেও রয়েছে এসআইআর। স্কুল শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বিএলওর ডিউটি করছেন। তারাই মূলত ভোটের প্রিসাইডিং অফিসার, ফাস্ট পোলিংয়ের ডিউটি সামলাতেন। তাঁরা বিএলও ডিউটিতে যুক্ত থাকায় কখনও অধ্যাপক কখনও মহিলাদের ভোটের ডিউটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। শুরু তাই নয়, এবার ভোটে জেলার বুথের সংখ্যাও বেড়েছে। এতদিন জেলায় ২ হাজার ৫০৪টি বুথে ভোট গ্রহণ হতো। এখন অক্সিলারি বুথগুলি নিয়ে জেলায় ২ হাজার ৫৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। স্বাভাবিক ভাবেই বুথের সংখ্যায় বাড়ায় ভোটকর্মীও বেশি করে নিতে হচ্ছে। এর ফলেই বাড়তি চাপ। কেউ ভোটের ট্রেনিংয়ে গরহাজির থাকলেই করা হচ্ছে শোকজ। বাদ যাচ্ছেন না প্রতিষ্ঠিত অধ্যাপকরাও। এসআইআরের দৌলতে এবার তাঁদের ফাস্ট পোলিংয়ের ডিউটিও করতে হবে।
অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২ হাজার ৫৮৮টি বুথের মধ্যে ২৭০টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে তিনটি ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা থাকবে। দু’টি ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা থাকবে বুথের ভেতরে। একটি থাকবে বুথের বাইরে। কন্ট্রোলরুমে সেগুলি নজরদারি করার জন্য বিপুল সংখ্যক মনিটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া এফএসটি ও এসএসটিতে বসানো হয়েছে ওয়েব ক্যামেরা। যার ফলে এফএসটি টিম যে সব জায়গায় নজরদারি চালাচ্ছে তাঁরা লাইভ ফুটেজ কমিশন সরাসরি নজরদারি করতে পারবে। পাশাপাশি নাকা পয়েন্টগুলিতেও বসানো হয়েছে ওয়েব ক্যামেরা। ফলে নাকা পয়েন্টগুলিরও ভার্চুয়াল নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।