রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: পুজোয় কোনও জেল্লা নেই। নেই আলোর রোশনাই। কিন্তু পুজোয় ধর্মীয় ভেদাভেদের বেড়া ভেঙে গিয়েছে। আজও সম্প্রীতির ফল্গুধারা বইছে পুজোয়। সম্প্রীতির বার্তায় গদাধর নদীর তীরে আজও দেবী দুর্গা পূজিত হন শামুকতলা থানার দক্ষিণ শিবকাটা সর্বজনীন পুজো কমিটির মণ্ডপে।
জেলা সদর থেকে ১৫ কিমি দূরে বক্সার গদাধর বিটের জঙ্গল। সেই জঙ্গলের পাশেই দক্ষিণ শিবকাটা গ্রাম। এই পুজোয় ১৯৫৫ সালে সম্প্রীতির ফল্গুধারার সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন স্থানীয় পার্শ্বনাথ হাইস্কুলের সেইসময়ের শিক্ষকরা। দক্ষিণ শিবকাটা সর্বজনীন পুজো কমিটির বর্তমান প্রজন্ম আজও পুজোয় সম্প্রীতির সেই বার্তা ধরে রেখেছে।
এবার পুজো ৭০ বছরে পড়ল। প্রতিমা আনা, পুজোর প্রস্তুতি, খিচুড়ি বিলি ও বিসর্জন সব কাজে হাত লাগায় গ্রামের হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, আদিবাসী সহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য ভাস্কর মল্লিক গর্বের সঙ্গে বলেন,আমাদের পুজোয় সম্প্রীতির ভারতের দেখা মিলবে।
পার্শ্বনাথ হাইস্কুলের মাঠেই পুজো প্রতিবছর হয়। মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের পুজোর মতো সর্বধর্মের এই পুজোয় থিম নেই। কিন্তু নিষ্ঠা, সাবেকিয়ানা ও সম্প্রীতির আবহে আজও উজ্জ্বল। পুজো কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস ও সম্পাদক নিতাই বিশ্বাস বলেন, ৭০ বছর আগে আমাদের পুজোয় সম্প্রীতির বার্তা বেঁধে দিয়ে গিয়েছিলেন পার্শ্বনাথ হাইস্কুলের তৎকালীন মাস্টারমশাইরা। আমরা সেই বার্তা বহন করে নিয়ে চলেছি। জেলা শহরের নোনাইপাড় পালপাড়া থেকে প্রতিমা আনা হবে। মুনসাং, কালকুট, গদাধর সহ পাঁচটি নদী পেরিয়ে মায়ের প্রতিমা আসবে। পুজো কমিটির সদস্য জাইদুল হক, পীযূষ বরগাঁও, সুকু বাস্কে, সুবল বাস্কে ও জলপা হেমব্রম বলেন, আমাদের পুজোয় ধর্মীয় ভেদাভেদের কোনও বেড়া নেই। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ রতন বিশ্বাস বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে স্কুলের মাঠে এবছরও মেলার আয়োজন থাকছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল গানের জমজমাট আসর বসবে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে গদাধর নদীতে দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। • তৈরি হচ্ছে দুর্গা মন্দির। - নিজস্ব চিত্র।