Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রক্তাল্পতা ও স্নায়ুরোগ থেকে মিলবে মুক্তি, রেশনে এবার ফর্টিফায়েড চাল

রক্তাল্পতা ও স্নায়ুরোগ থেকে মিলবে মুক্তি, রেশনে এবার ফর্টিফায়েড চাল
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এবার থেকে প্রতিটি রেশন দোকানে পুষ্টিগুণে ভরা ফর্টিফায়েড চাল মিলবে। বিশেষ এই চালে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। এই চালের ভাত খাওয়া হলে রক্তাল্পতা ও স্নায়ুরোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে খাদ্য দপ্তরের দাবি। এই চাল দেখতে একটু অন্য রকম। সেটি যাতে কেউ ‘প্লাস্টিক চাল’ ভেবে বিভ্রান্ত না হন তার জন্য খাদ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে এই চাল অনেক উপকারী। এই চালের ভাত একসময় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে দেওয়া হতো। প্লাস্টিক চাল ভেবে অনেকেই বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পরে তাঁদের ভুল ভাঙে। বিভিন্ন রাইসমিলে বিশেষ ধরনের এই চাল তৈরি করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক মিঠুন দাস বলেন, রেশন দোকানগুলিতে এই চাল সরবরাহ শুরু হয়েছে।
খাদ্যদপ্তর জানিয়েছে, রেশন দোকানগুলিতে ই-পস মেশিন দেওয়া হয়েছে। একসময় রেশন দোকানগুলি থেকে কম পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। প্রতিটি পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল দেওয়া হয়। ফর্টিফায়েড চাল নিয়ে যাতে কোনওরকম গুজব তৈরি না হয় তারজন্য রেশন ডিলারদেরও প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। কোনও গ্রাহক চাল নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাতে কী কী গুণ রয়েছে তা ডিলারদের জানাতে বলা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, আগে জেলার দু’থেকে তিনটি রাইসমিলে ফর্টিফায়েড চাল তৈরি হতো। এখন ২০টির বেশি রাইসমিলে বিশেষ ধরনের এই চাল তৈরি হয়। তারজন্য রাইসমিল মালিকদের বিশেষ মেশিন বসাতে হয়েছে।
ভাতারের বাসিন্দা অনুপ দাস বলেন, এখন উন্নতমানের চাল রেশনে দেওয়া হয়। বাম আমলের চাল পাতে তোলা যেত না। এখন সেই অবস্থা নেই। ফর্টিফায়েড চাল পাওয়া গেলে ভালোই হবে। বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। উপভোক্তাদের দাবি, প্রতিটি পরিবার এখন অনেক বেশি চাল পান। খাওয়ার পর অনেকে চাল বিক্রি করেন। ভালো মানের চাল হওয়ায় তা বিক্রি করতেও সমস্যা হয় না। 
খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সরকার অনেক চিন্তা করেই এই চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রামের বহু মহিলা রক্তাল্পতায় ভোগেন। তাঁদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এই চাল ভালো। নিয়মিত খেলে বহু সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। এই চালের ভাতের স্বাদ একটু অন্য রকম। কিন্তু পুষ্টির অভাব হবে না। প্রতিটি রেশন দোকানেই এই চাল দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার আগে গ্রাহকদের এই চাল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে, তা গ্রামের বাসিন্দাদের বোঝানো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ