Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেখা পাত্র সময় দিচ্ছেন না! একসময়ের সঙ্গীরা দূরে সরছেন, ভোটের মুখে ফাটল বিজেপিতে?

বিধানসভা ভোটের আগে ফের ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারি’ শুরু হয়েছে বিজেপির দিল্লির নেতাদের। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটপ্রচারের মুখ্য ইস্যু ছিল সন্দেশখালি।

রেখা পাত্র সময় দিচ্ছেন না! একসময়ের সঙ্গীরা দূরে সরছেন, ভোটের মুখে ফাটল বিজেপিতে?
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: বিধানসভা ভোটের আগে ফের ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারি’ শুরু হয়েছে বিজেপির দিল্লির নেতাদের। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটপ্রচারের মুখ্য ইস্যু ছিল সন্দেশখালি। মহিলাদের আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ভোট বৈতরণি পেরনোর চেষ্টা করলেও তা কার্যত দুরমুশ হয়েছিল বাংলায়। সূত্রের খবর, এখন সেই সন্দেশখালিতেই বিজেপির ফাটল বড়ো আকার ধারণ করেছে। বিজেপির ‘দুর্গা’ রেখা পাত্রের সঙ্গে বিস্তর দূরত্ব তৈরি হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। এমনকি, রেখার একসময়ের সঙ্গীরা এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বলেই স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে, সন্দেশখালিতে বিজেপির ভোটের রথ আসার কথা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে ওই রথকে কেন্দ্র করেই। দলের অন্দরে কানপাতলেই শোনা যাচ্ছে তা। বিজেপির এই কাজিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিচ্ছেন কিছু পদ্মবিপ্লবীই!
একসময় সন্দেশখালি হয়ে উঠেছিল গোটা দেশের ইস্যু। নারী নির্যাতন, জমি দখল ও ভেড়ি নষ্ট করা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের নামে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠতে শুরু করে। শুরু হয় আন্দোলন।

Advertisement

সময় যত গড়িয়েছে সন্দেশখালিতে বিজেপির রাশ আলগা হয়েছে ক্রমে। সেসময়ের আন্দোলনের মুখ রেখা পাত্রের সহযোগীরা বিজেপি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছেন পাল্লা দিয়ে। 
বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এলাকায় সেই অর্থে সময় দিচ্ছেন না রেখাদেবী। হাতেগোনা কিছু নেতাকে নিয়ে তিনি ছোটোখাটো কর্মসূচিই করছেন মাত্র। এমনকি, সিআরপিএফ নিয়ে এলাকায় আসেন তিনি। ফলে তাঁর কাছে পৌঁছানো ঝুঁকির ব্যাপার। এলাকায় কর্মীরা আক্রান্ত হলে তাঁর দেখাই পাওয়া যায় না। ভোট এগিয়ে আসতেই অবশ্য আনাগোনা কিছুটা বাড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু এখানে রাত কাটান না রেখা। বিজেপি সূত্রের আরো দাবি, কর্মী বা এলাকার মানুষ ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে রেখাকে নিয়ে। প্রতিমা সর্দার ও রেবতী কিস্কুদের কথায়, ‘আমরাও আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু তারপরেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না রেখা পাত্র। আমরা এখনো বিজেপির সমর্থক। কিন্তু এভাবে চললে আগামীতে জেতা বিধানসভা আসনও হারাবে বিজেপি।’ এনিয়ে বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত দলীয় নেতৃত্বের।’ 
তবে রেখা পাত্র বলেন, ‘কারা এই অভিযোগ করছেন আমি জানি না। তবে, আমি এলাকায় যথেষ্ট সময় দিই।’ এরপরেই তাঁর দাবি, ‘আমি বসিরহাট জেলা বিজেপির সহসভাপতি। ফলে আমাকে অনান্য বিধানসভা কেন্দ্রেও সময় দিতে হয়। কিছু লোক রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরেই এমন অবান্তর অভিযোগ করছেন। যাঁরা তৃণমূলে গিয়েছেন তাঁরা আসলে সুযোগসন্ধানী।’এই বিষয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, ‘আসলে সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির সঙ্গে মানুষ থাকতে পারে না। সন্দেশখালির মানুষ এটা বুঝে গিয়েছেন। ছাব্বিশে বাংলা থেকে নিশ্চিহ্নই হয়ে যাবে বিজেপি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ