অভিষেক পাল, বহরমপুর: আর ভুল নয়। সুযোগ এসেছে ভুল শুধরে নেওয়ার। রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের হয়ে ভোট চাইতে এসে মডেল বিধানসভা গড়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শক্তিপুরের সভা থেকে তৃণমূল জমানায় অনুন্নয়নের কথা মনে করিয়ে রেজিনগরে উন্নয়নের গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে জয় নিয়েও প্রত্যয়ী তিনি। শুভেন্দুবাবুর দাবি, ‘বিরোধী শক্তির পরাজয় ও অত্যাচারীদের পতন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। একই সঙ্গে রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।’
এদিনের সভা থেকে এলাকার ব্রিজ, কলেজ এবং ২০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তোলার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এবার এখানে ব্রিজটা চান কি না বলুন? চান তো? যদি চান, তাহলে শাখারভকে বিধায়ক করে আমার কাছে পাঠাতে হবে। এখানে কলেজ চান কি না বলুন? তাহলে শাখারভকে জেতাতে হবে। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম, ভোট দিন। ফলতাকে মডেল অ্যাসেম্বলি করব। রেজিনগরেও আমাকে ঋণে আবদ্ধ করুন। হিন্দু-মুসলিম করবেন না। সর্বদলীয় মানুষ সরকারের পক্ষে ভোট করুন। কথা দিয়ে গেলাম, রেজিনগরও মডেল বিধানসভা হবে। আর ভবানীপুর, নন্দীগ্রামের মতো এটিও আমার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মতোই। আমি এখানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে সেবাকেন্দ্র খুলে আপনাদের সেবা করব। এখানে শুধু এক্স-রে নয়, স্ক্যান, এমআরআই এবং প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। নন্দীগ্রামের মতোই এই কেন্দ্রের দায়িত্ব আমি নিজে নেব।’ সাগরদিঘির উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, সাগরদিঘিতে হারের পর প্রতিশোধের রাজনীতি করে সেখানে ছ’মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু, আমরা উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিশোধের রাজনীতি করি না। পাঁচ মাস আগে ভোট না পেলেও এখানে আমরা মানুষের পাশেই রয়েছি।
এলাকার অন্যতম বড়ো সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়েও বড়ো ঘোষণা করেন শুভেন্দুবাবু। তিনি দাবি করেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে রেজিনগরের প্রায় ৪০হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে ঘরে ফিরিয়ে আনা হবে। ১২৫ দিনের কাজের ব্যবস্থা করা হবে। রেজিনগর শিল্পতালুককে পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পতালুকের দায়িত্ব আমার। ইতিমধ্যেই চারটি প্রস্তাব এসেছে। দেড় বছরের মধ্যে রেজিনগরের কারখানায় ধোঁয়া দেখা যাবে এবং ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরাই সেখানে কাজ পাবেন।’
এলাকার গোপালকদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আমূলের মাধ্যমে দুধ কেনার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন। আমূল প্রতি লিটারে ৪৫ টাকা করে দাম দেবে বলে তিনি দাবি করেন। রেজিনগরে আমূলের পাঁচটি দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি ট্রেন ও গণপরিবহণে গোপালকদের দুধ নিয়ে যাওয়ার সময় হয়রানি বন্ধে কেন্দ্র ও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও তিনি দিয়েছেন।
রেজিনগরবাসীকে তিনি জানান, আগামী ৬ তারিখ সকালে ৩ নম্বর বোতাম টিপে পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন। গণনার দিন তিনি হেলিকপ্টার রেডি রাখবেন। শাখারভ জিতলে তাঁর সার্টিফিকেট নিজেই নিতে আসবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। -নিজস্ব চিত্র