নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’বছর আগে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ফের তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঠিক কোন পরিস্থিতির কারণে ওই চিকিৎসক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল এবং তিনি যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েই ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
২০২৩ সালের ৩০ জুন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক পড়ুয়া তনুশ্রী গোস্বামীর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিসের দাবি, এটি আত্মহত্যা। পরিবারের তরফে এফআইআর দায়ের করে দাবি করা হয়, মানসিক অত্যাচারের কারণেই তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবারের তরফে আরও দাবি, এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা যুক্ত, পুলিস তা যাচাইয়ের চেষ্টাই করেনি। পরবর্তীতে পুলিসি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে রাজ্যের তরফে কেস ডায়েরি, ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি, রিপোর্ট এবং হিস্টো প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট পেশ করে দাবি করা হয় এটি আত্মহত্যার ঘটনা। মানসিকভাবে তিনি অত্যাচারিত হয়েছিলেন কি না? তা তদন্তে উঠে আসেনি। পরিবারের আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয়, তদন্তে যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। ওই চিকিৎসক পড়ুয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বার বার ব্ল্যাকমেল করছিল কলেজেরই এক পড়ুয়া। অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হোক। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ঘোষ নির্দেশে জানান, প্রথমে রাজ্যের জমা দেওয়া ময়নাতদন্ত ও হিস্টো প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থা কল্যাণী এইমসের ডিরেক্টর যাচাই করে রিপোর্ট পেশ করবে। কোনও যৌন নিগ্রহের তত্ত্ব রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এইমসের রিপোর্ট আসার পর দু’পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি ঘোষ।
কিন্তু এরমধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মৃতার বাবা। সেই মামলার শুনানির পর বিচারপতি বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ঠিক কোন পরিস্থিতির কারণে ওই চিকিৎসক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল এবং তিনি যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন কি না তা যাচাইয়ে ফের তদন্ত করবে পুলিস।