নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৭০ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। ইডেন গার্ডেন্সে ইরানের ক্লাব পাস তেহরানকে হারিয়ে সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক বাদে ইরানের আরও এক ক্লাবকে হারাল লাল-হলুদের প্রমীলা ব্রিগেড। সেই সঙ্গে মহিলাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে কোনও ম্যাচ জয়ের নজির গড়লেন জৌতি-সুলাঞ্জনারা। সোমবার চীনের হাংকৌ কালচারাল স্পোর্টস সেন্টারে ইরানের বাম খাতুনকে ৩-১ গোলে বশ মানায় অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের মেয়েরা। লাল-হলুদ ব্রিগেডের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন সিল্কি দেবী, ফাজিলা ইকবাপুট ও রেস্টি নানজিরি। ইরানি ক্লাবটির হয়ে ব্যবধান কমান মোনা হামৌদি। শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলেন জৌতি-সারিথারা। স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের এই পারফরম্যান্সে খুশি কোচ অ্যান্টনি। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের লক্ষ্য, গ্রুপের প্রথম দু’টি দলের মধ্যে থেকে নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত করা।’ ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘বিদেশের মাটিতে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব সব সময় সাফল্য পেয়েছে। পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই তা স্পষ্ট। কোচ ও গোটা দলকে অভিনন্দন। মহিলা দলকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই লগ্নিকারী সংস্থাকে। বাকি দু’টি ম্যাচেও ফোকাস ধরে রাখতে হবে।’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ উহান জিয়াংহান ইউনিভার্সিটি। দিনের অপর ম্যাচে নাসাফের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে চীনের ক্লাবটি। ফলে বৃহস্পতিবার জিতলেই শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করবে ইস্ট বেঙ্গল।
অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের প্রশিক্ষণে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে ইস্ট বেঙ্গল মহিলা দল। বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা মূলপর্বে ওঠে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে যাওয়ার আগে কল্যাণীতে বিশেষ আবাসিক শিবির করেন কোচ অ্যান্ড্রুজ। ফলও মিলেছে। এখন চীনে প্রবল ঠান্ডা। তাই ওয়ার্ম-আপের সময় অসুস্থ বোধ করেন লাল-হলুদের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার মৌরিন। প্রথম একাদশে নাম থাকলেও, তাঁকে বাদ দিয়ে সুইটি দেবীকে শুরু থেকে খেলান কোচ অ্যান্টনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল মেলে ধরেন সৌম্যা গুগুলোথরা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন সিল্কি। ১৪ মিনিটে সৌম্যার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩২ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে ব্যবধান বাড়ান ফাজিলা। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ইরানের দলটির হয়ে ব্যবধান কমান মোনা হামুদি। বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, দ্বিতীয়ার্ধে একইভাবে চাপ বজায় রাখে ইস্ট বেঙ্গল। এই পর্বে ফাজিলার শট পোস্টে লাগে। শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে প্রতিপক্ষ কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন রেস্টি।



