নিজস্ব প্রতিনিধি, মারগাও: ফাতোরদা নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালের আগে সাংবাদিক সম্মেলন চলছে। ইস্ট বেঙ্গলের সহকারী কোচ বিনো জর্জের দিকে উড়ে এল এক গোয়ান সাংবাদিকের প্রশ্ন, ‘ফাইনালে মাঠে এফসি গোয়ার অনেক সমর্থক থাকবে। সেটা কি ভাবাচ্ছে ইস্ট বেঙ্গলকে?’ প্রশ্নটা শুনেই মুচকি হাসলেন তিনি। জবাব, ‘আপনি কলকাতা ডার্বির কথা শুনেছেন? ৬০-৭০ হাজার দর্শকের সামনে যুবভারতীতে খেলতে অভ্যস্ত আমরা। তাই বিপক্ষ সমর্থক নিয়ে চিন্তিত নই।’ বিনো ভুল কিছু বলেননি। ফাতোরদায় মেরেকেটে ২৫ হাজার সমর্থক ধরে। সম্প্রতি এফসি গোয়ার গ্যালারিও ভরছে না। ফাইনালে গলা ফাটাতে অনেক লাল-হলুদ সমর্থকও গোয়ায় আসছেন। তাই কুছ পরোয়া নেহি!
বিপক্ষ সমর্থকদের চাপ নিয়ে চিন্তিত নয় ইস্ট বেঙ্গল। বরং ফাতোরদাকে চুপ করিয়ে ট্রফি কলকাতায় নিয়ে যেতে তৈরি কলকাতার প্রধান। টিম গেমেই শক্তিশালী গোয়াকে হারাতে তৈরি অস্কার-ব্রিগেড। শনিবার সালভাদোর দো মুন্ডোর মাঠে অনুশীলনেও সেই ছবি চোখে পড়ল। চূড়ান্ত মহড়া শেষে টিম ইস্ট বেঙ্গল যেন সুখী পরিবার। প্রভসুখন গিলের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতেছেন আনোয়ার আলি। মাঝমাঠের ত্রয়ী মিগুয়েল-রশিদ-সাউলও ফুরফুরে মেজাজে কোচের সঙ্গে গল্পে মজলেন। সাউল সাংবাদিক সম্মেলনেও বলছিলেন, ‘মাঠের বাইরেও ইস্ট বেঙ্গল একটা পরিবার। রশিদ, মিগুয়েল আমার খুবই ঘনিষ্ঠ। একসঙ্গে আড্ডা দিই, কফি খেতে যাই। আর তার প্রতিফলন ঘটে মাঠেও।’
শক্তিশালী এফসি গোয়াকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল। তারকা ফিডফিল্ডার সাউল ক্রেসপোর কথায়, ‘এফসি গোয়া দলে ভারসাম্যের অভাব নেই। ওদের মিডফিল্ডার বোরহা হেরেরার সঙ্গে অতীতে খেলেছি। তাই বিপক্ষ সম্পর্কে ভালোমতোই ধারণা আছে।’ শুধু খেলেছেন? বোরহা তো আপনার প্রিয় বন্ধু? প্রশ্নটা শুনেই হেসে ফেললেন সাউল। তাঁর সংযোজন, ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। তবে মাঠে রেফারির বাঁশি বাজলে বন্ধুত্ব শেষ। তখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না।’