Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

লাল পাথরের আগ্রা

সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আগ্রা ও তাজমহল সমার্থক হলেও এই শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোগল-ই-আজমের নানা স্থাপত্যকীর্তি। যমুনা তীরবর্তী এই শহরটির একদা নাম ছিল ‘আগ্রাবন’।

লাল পাথরের আগ্রা
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কীভাবে যাবেন: রেলপথে আগ্রা পৌঁছানো যায়। অথবা বিমানে উত্তরপ্রদেশের খেরিয়া বিমানবন্দর হয়েও আগ্রা শহরে পৌঁছতে পারেন। এরপর সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে যমুনা তীরবর্তী এই শহরের স্থাপত্য কীর্তি দেখতে হবে।

Advertisement

সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আগ্রা ও তাজমহল সমার্থক হলেও এই শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোগল-ই-আজমের নানা স্থাপত্যকীর্তি। যমুনা তীরবর্তী এই শহরটির একদা নাম ছিল ‘আগ্রাবন’। পুরানো আগ্রা শহরটি কিন্তু খুব একটা বড়ো নয় আর এখানকার মূল দ্রষ্টব্যগুলি ঘুরে দেখতে একটি গোটা দিন যথেষ্ট। একটা সময় এখানে প্রচুর টাঙ্গা চললেও এখন সে জায়গা নিয়েছে অটো। অটোতে শুরু হল আমাদের আগ্রা সফর। প্রথমেই দেখলাম এই শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল যে স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে সেই আগ্রা ফোর্ট। 
‘আগ্রা কেল্লা’। নামটি শুনলে মনে হতে পারে এটি বুঝি কোনো সামরিক ছাউনি। বাস্তবে তা নয়। আগ্রা ফোর্ট আসলে একটি আস্ত শহর। মোগল সচিবালয়, বাসগৃহ, সামরিক স্থাপনা—সব মিলিয়ে লাল পাথরের দুর্গ ঘেরা পরিকল্পিত এক রাজধানী। ১৯৮২ সালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ইউনেস্কোর অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমান দুর্গের অধিকাংশ মোগল আমলে নির্মিত হলেও এখানে এগারো শতকে নির্মিত একটি প্রাচীন দুর্গের অবস্থান ছিল আর সেটি ছিল রাজা বাদল সিং-এর অধীনে। তখন জায়গাটির নাম ছিল বাদলাগড়। আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৫৬৫ সালে তৃতীয় মোগল সম্রাট আকবর ক্ষতিগ্রস্ত কেল্লাটিকে নতুন করে লাল বেলেপাথরে মুড়ে দেন। সে কারণে এই কেল্লাকে আগ্রার লালকেল্লা নামেও অভিহিত করা হয়। 
গঠনগত দিক থেকে দুর্গটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির। এর মাঝের রাস্তা প্রায় ২৭০০ ফুট লম্বা যমুনার পাড় বরাবর চলে গিয়েছে। চারপাশের দেওয়ালটি লাল বেলেপাথরের এবং ৭০ ফুট উঁচু। পাথরগুলি সমান করে কেটে লোহার আংটা দিয়ে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে লাগানো যে উটের লেজও ভিতর দিয়ে গলতে পারে না। এই লালদুর্গে প্রবেশের জন্য চারটি ফটক রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত হয় অমর সিং নামাঙ্কিত প্রবেশদ্বারটি। ঢুকেই প্রথম ভবনটি হল জাহাঙ্গিরমহল। লাল বেলেপাথরের তৈরি এই স্থাপত্যটিই বর্তমানে টিকে থাকা আকবরি জমানার একমাত্র নিদর্শন। এই দ্বিতল ভবনটিতে রয়েছে প্রসারিত বারান্দা। সেখানে প্রবেশের পূর্বে খোলা প্রাঙ্গণে দেখা মেলে জাহাঙ্গিরের বাথটাবের, যা মূলত একটি শিলা কেটে তৈরি। গোলাপজল রাখার এই পাত্রের গায়ে ফারসি শ্লোক সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা আছে। জাহাঙ্গিরমহলের ভিতরেই রয়েছে রাজস্থানি হাভেলির আদলে তৈরি যোধাবাইয়ের প্রাসাদ। আর সেখানে ঢুকতেই এক বড়ো চমক। রয়েছে আস্ত একটি মন্দির। আর তাতে বিগ্রহের আসন। দেখে মনে পড়ে যায় এখানেই তো হত ঝুলন, রাস, হোরিখেলার নানা অনুষ্ঠান। আকবর তাঁর দূরদৃষ্টির দ্বারা বুঝেছিলেন সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য রাজপুতদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন একান্ত জরুরি। অম্বররাজ বিহারিমলের কন্যা যোধার সঙ্গে বিবাহের সূত্রে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রবেশ ঘটে ইসলাম রাজপরিবারে। উল্লেখ্য, অম্বর রাজকন্যার ধর্মান্তকরণ হয়নি। তিনি আজীবন হিন্দু দেবদেবীর পূজা-অর্চনা করে গিয়েছেন।
এখান থেকে বেরিয়ে দূর থেকেই দেখতে পেলাম দিওয়ান-ই-আমের সারিবদ্ধ স্তম্ভগুলি। বিশাল হলটির মধ্যে নিখুঁত অনুপাতে স্থাপন করা স্তম্ভগুলি হল এর সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য। এটিই সেই আম-দরবার যেখানে বসে বাদশাহ শুনতেন তাঁর প্রজাদের আরজি, আবেদন। সম্রাট শাহজাহানের সময় এটি নতুন করে সাদা মার্বেলে পরিমার্জিত করা হয়। সম্রাট আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় যে নির্মাণশৈলী বিকশিত হয়েছিল তা প্রধানত লাল বেলেপাথরের সৃষ্টি। আবার তাঁর নাতি শাহজাহানের পছন্দ ছিল শ্বেতপাথর। ঠাকুরদার সৃষ্টি ভেঙে নতুন করে সাদা মার্বেলের নির্মাণকাজের ফরমান দেওয়া হয় শাহজাহানের আমলে। দিওয়ান-ই-খাস অর্থাৎ সম্রাটের গোপন মন্ত্রণাসভাকক্ষটিও সাদা মার্বেলের অপূর্ব কারুকার্য সমন্বিত। 
আগ্রার লালদুর্গ দেখা শেষ হলে আমরা এগলাম সিকান্দ্রার দিকে, যেখানে সমাহিত আছেন শাহেনশা আকবর। নিজের জীবদ্দশাতেই বেছে নিয়েছিলেন মরণের পরের জায়গা। শুধু নিজের নয়, চেয়েছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও নির্ধারিত থাকুক সিকান্দ্রা। পিরামিড আকৃতির এই সমাধি পাঁচতলা বিশিষ্ট। সম্পূর্ণ সমাধিটি লাল বেলেপাথরের হলেও উপরের তলাটি সাদা মার্বেলের। প্রবেশ তোরণের ক্যালিগ্রাফিতে রয়েছে মোট ৩৬টি বাণী—যার প্রথম তেইশটি ঘোষণা করছে আকবরের জাগতিক পরিচয়, তার জীবনকথা। বাকি তেরোটি মহম্মদের বাণী, বিশ্ব প্রেম মৈত্রীর কথা, মুক্তির কথা—এমনটাই জানা গেল গাইডের মুখে।
সেদিনের মতো ঘোরাঘুরি সেরে হোটেলে ফেরা গেল। পরদিন যেতে হবে মহম্মদ জালালউদ্দিন আকবরের ড্রিম প্রজেক্ট ফতেপুর সিক্রি। সকালে তৈরি হয়ে ব্রেকফাস্ট সারতেই গাড়ি হাজির। গাড়ি ছুটল আগ্রা জয়পুর হাইরোড হয়ে। আগ্রা থেকে কিছুটা দূরে একেবারেই এক অখ্যাত গ্রাম সিক্রি। জানা যায়, এই সিক্রি গ্রামের সেলিম চিস্তির অলৌকিক ক্ষমতার বলেই তাঁর পুত্রসন্তান লাভ হয়। বাদশার মনোরথ পূর্ণ হওয়ার পর অর্থাৎ ১৫৬৯ সালে পুত্রসন্তান জন্মানোর খুশিতে সন্ত সেলিম চিস্তির নামেই পুত্রের নামকরণ করেন সেলিম এবং চিস্তি সুফি সন্তর স্মৃতিতে গড়ে তোলেন নতুন রাজধানী, ফতেপুর সিক্রি। যার একটি অর্থ ‘বিজয় নগরী’। স্বপ্নের এই দুর্গ শহরকে তিনি সাজিয়েছিলেন মনের মতো করে। হাভেলি, দপ্তর, কিতাবখানা, তসবিরখানা, মসজিদ, হাতিশাল, ঘোড়াশাল—কী নেই সেখানে? সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের রাজত্বে প্রায় পনেরো বছর কাটিয়েছিলেন এই দুর্গ রাজধানীতে। পানীয় জলের অভাব দেখা দিলে ১৫৮৫ সালে লাহোরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। ফতেপুর সিক্রি পরিণত হয় পরিত্যক্ত নগরীতে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলীর তাৎপর্যের নিরিখে বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত ফতেপুর সিক্রি।
আগ্রা থেকে সিক্রির দূরত্ব মাত্র ৩৬ কিমি। কেল্লায় প্রবেশ করার পূর্বেই চোখে পড়ল ফতেপুর সিক্রির ল্যান্ডমার্ক বুলন্দ দরওয়াজা। ৫৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই ফটকের একটি স্তম্ভে ফারসি ভাষায় খোদিত স্মারকলিপি থেকে জানা যায় আকবরের গুজরাত বিজয়ের পর নির্মিত হয়েছিল এই বিশালাকার ফটক। প্রায় ৪২টি ধাপ পেরিয়ে এই বিশাল ফটক দিয়ে কেল্লার অন্দরে প্রবেশ করা গেলেও বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে সেটি বন্ধ। বুলন্দ দরওয়াজাকে বাঁ-হাতে রেখে গাড়ি এগল টিলার উপর দিয়ে। কিছু পরেই একটি বাদশাহি ফটকের সামনে গাড়ি এসে থামল। 
কেল্লার ভিতরে এই শহরটিকে দৃশ্যত দু’টি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি শ্বেতপাথরের দরগা ও মসজিদ নিয়ে তৈরি সিক্রি আর অপরটি ফতেপুর বা রয়্যাল প্লেস যেখানে রয়েছে বিভিন্ন মহল, প্রশাসনিক দপ্তর, আস্তাবল, বীরবলের বাড়ি ইত্যাদি। চারদিকে লালপাথরে ঘেরা বিশাল এক প্রাঙ্গণে শ্বেতশুভ্র পাথরে মোড়া একটি কুটির আকৃতির স্থাপত্য। সেলিম চিস্তির দরগা। আজও বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন ইচ্ছা পূরণের প্রার্থনা জানাতে। দরগার সাদা পাথরের অপূর্ব জালির কাজ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ করে দেয়। দরগার উলটোদিকেই রয়েছে জামি মসজিদ যেখানে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ বসে নামাজ পড়তে পারে। দরগা ও মসজিদ ঘুরে পা বাড়ানো গেল রাজধানীর কেন্দ্র অভিমুখে। 
 এখানকার দেওয়ান-ই-খাসের বাইরের গঠনে যেমন তজল্লি, ভিতরের কাজও সাংঘাতিক নজরকাড়া। দৌলতগারের পূর্ব প্রান্তে এই ইমারতটি সুবিখ্যাত তার কেন্দ্রস্থ স্তম্ভটির কল্যাণে। থামগুলির কারুকাজের জেল্লা যেন ঠিকরে বের হচ্ছে। স্তম্ভের সঙ্গে যুক্ত আসনটি সম্রাটের আসন এবং তির্যক গ্যালারিতে বসতেন মন্ত্রী ও সভাসদগণ। অনেকের মতে, এটাই ছিল বাদশার মন্ত্রণাসভা। আবার কেউ বলেন এখানে বসে তিনি হীরে-জহরত পরীক্ষা করতেন। কারণ এর ঠিক পশ্চিমেই দৌলতখানা বা ট্রেজারি। ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই অসাধারণ স্থাপত্যটিতে।
বাদশা আকবরের খাসমহলটি দ্বিতল এবং জানা যায় এখানে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল প্রায় পঁচিশ হাজার বই। সম্রাটের আদেশে সংস্কৃত, হিন্দি, লাতিন ভাষায় লেখা বিভিন্ন আকর গ্রন্থ অনূদিত হতে থাকে ফারসিতে। মহাভারত, রামায়ণ প্রভৃতি গ্রন্থগুলি শুধুমাত্র অনুবাদ নয়, প্রত্যেকটি পুঁথিকে তিনি অসংখ্য সুন্দর ছবিতে সুশোভিত করার আদেশ দেন। আর তার জন্য আনা হয় পারস্য, মধ্য এশিয়া, কাশ্মীর ও লাহোরের খ্যাতনামা ক্যালিগ্রাফারদের। জন্ম নেয় শিল্পের এক বিশেষ ঘরানা—‘মোগল পেইন্টিংস’। এরপর দেখে নেওয়ার পালা এখানকার অন্যতম দর্শনীয় পাঁচমহল। এটি বাদগির বা উইন্ড টাওয়ার নামেও পরিচিত। মূলত, বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। পাঁচমহলের সামনেই রয়েছে অনুপ তালাও। আর এই অনুপ তালাওতেই বসত সংগীতের মেহফিল যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন উস্তাদ কি উস্তাদ ‘তানসেন’। পাঁচমহলের ঠিক পেছনেই যে একতলা বিল্ডিংটি রয়েছে তার নাম গোল্ডেন প্যালেস অথবা সুনেহেরা মহল বা মরিয়ম হাউস। এর দেওয়াল সোনা দিয়ে আঁকা ছিল বলে দিনের আলোয় ঝলমল করে উঠত তাই এর নাম সুনেহেরা মহল। মনে করা হয় এখানে বাস করতেন আকবর জননী মরিয়ম মাকানি ওরফে হামিদাবানু, যিনি নিজে ছিলেন রামায়ণের গুণগ্রাহী শ্রোতা এবং তাঁর নির্দেশে রামায়ণের ফারসি অনুবাদও করানো হয়। 
এরপর একে একে খাজাঞ্চিখানা, মাদ্রাসা, সূতিকাগার, নাগিনা মসজিদ ঘুরে দেখতে দেখতে বাংলা সিনেমাপ্রেমী দর্শকের মনে পড়ে যেতে পারে ‘লাল পাথর’ নামক একটি পুরানো বাংলা সিনেমার কথা। যার বেশ কিছুটা অংশের শ্যুটিং হয়েছিল এই দুর্গের অভ্যন্তরে। এরপর আমরা পৌঁছালাম দিওয়ান-ই-আম বা বাদশার আমদরবারে। আয়তক্ষেত্রের আকারে প্রকাণ্ড উদ্যান, চারদিকে দীর্ঘ অলিন্দে ঘেরা। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে এখানে বসে প্রজাদের আরজি শুনতেন বাদশা স্বয়ং। কাছেই গুজরাতি ও রাজস্থানি স্থাপত্যের যোধাবাইয়ের প্রাসাদটি দেখবার মতো। প্রাসাদের অন্দরে মন্দির ও আঙিনায় তুলসী মঞ্চ আজও অক্ষত। এর দুটি বিভাগ। একটি গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ এবং অপরটি শীতকালীন। গ্রীষ্মকালীন অংশটিতে দেখা যাবে শীতল বাতাসের জন্য জালির জানালা আর শীতকালীন অংশটিতে শক্ত, মোটা দেওয়াল।
দু’পাশে সার দিয়ে হাতিশাল ও ঘোড়াশাল পেরিয়ে বীরবলের প্রাসাদটিও বেশ সুন্দর। তুখোড় মেধা, ও অসামান্য রসবোধের কারণে মহেশ দাস ওরফে বীরবল ছিলেন সম্রাটের প্রিয়পাত্র। আকবরের চরিত্রের যে বিপুল বৈচিত্রের সমাহার তারই প্রকাশ দেখি দ্বিতীয় রাজধানী ফতেপুর সিক্রির নগর স্থাপত্যে, বুলন্দ দরওয়াজার বিশালত্বে। আগ্রা দুর্গের জাহাঙ্গির মহলে, ফতেপুর সিক্রির ইবাদতখানায় যেন ছড়িয়ে আছে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের গভীর দর্শন, যা আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক। 
মিতা রায়চৌধুরী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ