স্টকহোম: ছয়ের দশক। সেইসময় অন্তঃসত্ত্বাদের ঘুমের ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হত থালিডোমিড। পরে দেখা যায়, থালিডোমিডের একটি রূপ ভালো কাজ করলেও অন্য রূপটি শরীরের ক্ষতি করছে। এর জেরে হাজার হাজার শিশু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাচ্ছে। এরপরই শুরু হয় গবেষণা। ওষুধ তৈরিতে কীভাবে কোনো অণু বা যৌগের সঠিক রূপটি কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকে। অবশেষে খুলল রহস্যের দ্বার। এই জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য ২০২৬ সালে রসায়নে নোবেল দেওয়া হল ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বি কাগান ও জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াইকে। বুধবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমির তরফে জানানো হয়েছে, অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষ বা অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসে নন-লিনিয়ার এফেক্ট ও অটোক্যাটালিসিস বা স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্যই তাঁদের নোবেল দেওয়া হয়েছে।
রসায়নে ক্যাটালিটিক অ্যাসিমেট্রিক সিন্থেসিস তথা অনুঘটকীয় অপ্রতিসম সংশ্লেষণ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে কাগানের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই প্রাপ্তি অতীতের এক বিতর্ককেও উস্কে দিয়েছে। ২০০১ সালে অনুঘটকীয় অপ্রতিসম সংশ্লেষণ নিয়ে গবেষণার জন্য উইলিয়াম নোলস, রিয়োজি নোয়োরি এবং ব্যারি শার্পলেসকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। বাদ পড়েছিল কাগানের নাম। নোবেল পুরস্কার প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো একটি নির্দিষ্ট শাখায় এক বছরে সর্বোচ্চ ৩ জনকে যৌথভাবে এই পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। শোনা যায়, এই কারণেই কাগান বাদ পড়েন। তা নিয়ে ফ্রান্সের বিজ্ঞানী মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। নোবেল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টরকে চিঠি লেখেন ফ্রান্সের তৎকালীন বিজ্ঞানমন্ত্রী। কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২৫ বছর। অবশেষে ভুল সংশোধন। ৯৫ বছর বয়সে স্বীকৃতি দেওয়া হল কাগানকে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমরা নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখি। তবে সেখানে ডান হাতের জায়গায় দেখা যায় বাঁ হাত। রসায়নেও এমন এক জটিল তত্ত্ব আছে। কিছু অণু আছে, যাদের গঠন নিজের প্রতিবিম্বের মতো। দুটি অণুর পরমাণু একই। বন্ধনও একই। কিন্তু জীব শরীরে আচরণ ভিন্ন। একটি ওষুধ হিসাবে কাজ করলেও অন্যটির ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। রসায়নের ভাষায় এদের বলে এনান্টিওমার। অণুর এই বৈশিষ্ট্যের নাম কাইরালিটি। উদাহরণস্বরূপ, অ্যামিনো অ্যাসিডের দুটি রূপ থাকতে পারে, প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয় একটি। প্রকৃতি কেন একটিকে বেছে নিল, সেটাই ছিল রহস্য। এবার তা উন্মোচন করলেন কাগান ও সোয়াই।