নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল আমলে এসএমএস এবং ইমেলের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের ইন্টিমেশন লেটার পাঠানোর ব্যবস্থার সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউটাউন কনেভনশন সেন্টারে শিক্ষক দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি বলেছি, মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে নিয়োগ হয় না। নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে মেধা এবং পরীক্ষাই একমাত্র বিচার্য বিষয়। অন্য কিছু দেখার দরকার নেই।’
ইন্টারভিউয়ে বেশি নম্বর রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, মৌখিকে এত নম্বর রেখেছেন কেন? নিজেদের লোক ঢোকাবেন বলে? তিনি অ্যাকাডেমিক এবং পরীক্ষার নম্বরেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ইন্টারভিউয়ে সর্বাপেক্ষা পাঁচ নম্বর রাখতে বলেছি এসএসসিকে। অন্যদিকে, পিএমশ্রীর ধাঁচে রাজ্যে সিএমশ্রী স্কুল খোলার ঘোষণাও এদিন করেন তিনি। জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ধাঁচে ষষ্ঠ শ্রেণিতে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করে ভর্তি নেওয়া হবে এখানে। এক্ষেত্রে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, নতুন স্কুল সবসময় স্বাগত। তবে, হিন্দু, হেয়ারের মতো ৩৯টি ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্কুলগুলিকে একইভাবে সেন্টার অব এক্সলেন্সের তকমা দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তির অধিকার দেওয়া হোক। স্কুলে খেলাধুলো এবং গানবাজনার
চর্চা বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
এদিন আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘বিদ্যাসাগর মেরিট স্কলারশিপ’এর উদ্বোধন করা হয়েছে এদিন। এর পাশাপাশি, এদিন থেকেই চালু হয়েছে কলেজ শিক্ষকদের ট্রান্সফার পোর্টাল। বাংলার উচ্চশিক্ষা পোর্টালেই সেই লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ শিক্ষকদের এই দাবি ছিল। এদিন সকালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে শিক্ষক দিবসের অপর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।