রাঁচি: রাজ্য সরকারি চাকরির নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড বিধানসভার অধিবেশন। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির বিধায়করা। হট্টগোলের জেরে অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে এদিনই বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি পালন করেছে দু’টি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদের সমর্থনে রাঁচিতে হাজির হন আইসা’র সভাপতি নেহা বোরা। এদিন মিছিলের সময় তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়া হয়। জবাবে নেহা বলেন, ‘ওদের কাছে কালি হল অন্যদের অপদস্থ করার হাতিয়ার। তবে আমরা এই কালি দিয়েই ভবিষ্যৎ লিখব। এই কালি গর্বের।’
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে পড়ুয়াদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৪ দিনে পড়েছে। সেখানে অনশন জারি রেখেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাত সহ মোট ছ’জন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাহুল ক্রান্তি নামে এক অনশনকারীকে হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছে। প্রতিবাদীদের দাবি, ১৪তম ঝাড়খণ্ড পিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সিবিআই বা অন্য কোনো রাজ্যের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্ব তদন্ত চালাতে হবে। সিআইডি তদন্তে তাঁদের ভরসা নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা আসার পর গতকাল রাতে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গড়েন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারের তরফেও পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছেন মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে সিং ও সুদিব্য কুমার। যদিও পড়ুয়াদের অভিযোগ, সরকার আলোচনার কথা বললেও এবিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ এখনও মেলেনি। তবে গতকাল রাতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন রাঁচির এসডিও এবং এডিএম (আইন-শৃঙ্খলা)।
এদিন আইসা ও এআইএসএফ বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি পালন করে। বিধানসভার অভিমুখে দুই ছাত্র সংগঠনের মিছিল বিরসা চকে আসার পর সেখানে এক ব্যক্তি নেহা বোরাকে কালি ছোড়েন। তাঁকে দেশ বিরোধী বলে তোপ দাগেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। নেহা বলেন, ‘দিল্লির প্রতিবাদে পেলেট গান ও লাঠিচার্জ সহ্য করেছি। কালি ছিটিয়ে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না।’
পড়ুয়াদের মিছিলের কথা মাথায় রেখে গতকাল থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত বিধানসভা ভবনের ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সকাল ছ’টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত জারি থাকছে এই বিধিনিষেধ। ঘটনাচক্রে, ঝাড়খণ্ডের প্রতিবাদ আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি চলছে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে। মঞ্চের তরফে এদিন বলা হয়েছে, দুই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিধানসভা অভিযান কর্মসূচিতে তারা অংশ নেয়নি। তবে কোনো সংগঠন আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানালে তা স্বাগত। মঞ্চের তরফে আগামী ১০ আগস্ট ‘বিধানসভা ঘেরাও’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে।
এক ছাত্রনেতা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারের কোনো সাড়া মেলেনি। তবে আমি ফোনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, শরিক দল হিসাবে ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। তবে, বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক ভাঁওতা’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।