নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ করছে ফর্ম বিলি। কারও দায়িত্ব ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা গ্রাহককে বোঝানো। ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত চুক্তিভিত্তিক এই এজেন্টে (ডিএসএ) নিয়োগেই প্রতারণার জাল ছড়ানো। হেয়ার স্ট্রিটে সরকারি কর্মী সেজে ৬২ লক্ষ টাকা জালিয়াতির ঘটনায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল কলকাতা পুলিস। সূত্রের খবর, জালিয়াতির ঘটনায় সরকারি কর্মীদের ব্যাঙ্কের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে প্রতারকদের কাছে। নেপথ্যে ডিএসএ নিয়োগ। এমনটাই দাবি লালবাজারের।
পুলিস সূত্রের খবর, সেচ, স্বাস্থ্য ও বন দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে ছ’টি পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৬২ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। কিস্তি জমা না-পড়ায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম আকাশ ধীবর। কলকাতায় এনে ওই যুবককে টানা জেরা করেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত যুবক অন্য ডিএসএ মারফত বাঁকুড়ার একটি ব্যাঙ্কে ডিএসএ হিসেবে কাজে যোগ দেয়। একইসঙ্গে আশপাশের আরও কয়েকটি শাখায় যুক্ত হয় এই প্রতারণা চক্রের মোট পাঁচ-ছ’জন।
জেরায় তদন্তকারীরা জেনেছেন, সেই সমস্ত চুক্তিভিত্তিক এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন গ্রাহকের তথ্য বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আকাশের সঙ্গে সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনের যোগসাজশ রয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, বেছে বেছে এমন সরকারি চাকরিজীবীদেরই বাছাই করত অভিযুক্তরা। এরপর ব্যাঙ্কের সার্ভার থেকে তাদের তথ্য হাতিয়ে নিত তারা। এভাবেই ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া সরকারি কর্মীদের স্যালারি স্লিপ বের করে নিয়ে তা জাল করা হয়। পুলিস সূত্রের খবর, সেই জাল নথি কাজে লাগিয়েই ব্যাঙ্কে সরকারি কর্মী পরিচয়ে ঋণের জন্য আবেদন করা হয়। ধৃত আকাশের সঙ্গে নিয়মিত কারা যোগাযোগ রাখত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিস। লালবাজার সূত্রের খবর, এই কাণ্ডে বড়সড় চক্র জড়িত রয়েছে। এদের কাজ এজেন্ট হিসেবে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এরপরই কাজ চলাকালীন ব্যাঙ্ককর্মীদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে প্রতারণাই তাদের টার্গেট।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের নেপথ্যে আরও বড় কোনও ‘মাথা’ থাকতে পারে। ব্যাঙ্ক থেকে হাতানো তথ্য সেই ‘বস’কে বেচত আকাশরা। জেরায় সেই মাথার সন্ধান পেতে চাইছে পুলিস। লালবাজারের এক কর্তার কথায়, সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় ডিএসএ মারফত ব্যাঙ্কে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ইদানীং একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, সেই সমস্ত বিজ্ঞাপনও ভুয়ো। চাকরি প্রার্থীদের থেকে টাকা হাতানোর জন্য এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো।