৩৩ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ এপ্রিলের মধ্যে, শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ: শুভেন্দু
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ছ’মাস। অর্থাৎ, এপ্রিল। শূন্যপদ পূরণে রাজ্য সরকারের ডেডলাইন। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেটাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৪ হাজার ৪৫৪ পদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আর ১৪ অক্টোবরের বৈঠকে অনুমোদন মিলেছিল ৪৫ হাজার ১৮৫ পদের। তার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী পদই ছিল ৩৩ হাজার ১৯৯টি। পাশাপাশি এদিনই প্রশাসনিক সংস্কার, নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, দমকল ও জরুরি পরিষেবা এবং নারী ও শিশুকল্যাণ-সহ বিভিন্ন দপ্তরে মোট ১ হাজার ১৯৯টি নতুন পদ সৃষ্টির ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই ৬০ হাজার পদেই এপ্রিলের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার টার্গেট নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে পুলিশে ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করে ফেলেছে রাজ্য সরকার।

Advertisement

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি বিতর্কের মাঝেই পালাবদল হয়েছে বাংলায়। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অন্যদিকে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজ্য সরকার ঘোষণাও করেছে, প্রাথমিক স্তরে ৪ হাজার ৪৩২ সহ-শিক্ষক, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৬ হাজার ৫২ সহ-শিক্ষক এবং মাধ্যমিক স্তরে ১২ হাজার ৩৪৩ সহ-শিক্ষক পদ পূরণ করা হবে। কিন্তু নতুনভাবে যাঁরা শিক্ষক পদে চাকরি পাবেন, তাঁদের ‘রাজনীতির পথ’ অবশ্য বন্ধ করে দিতে চলেছে শুভেন্দু প্রশাসন। বুধবারই নবান্নে বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়েছেন, এবার থেকে নতুন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা পদে যাঁরা চাকরি পাবেন, তাঁরা আর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা-সহ কোনো নির্বাচনেই আর প্রার্থী হতে পারবেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তার জন্য বিধি বদল করা হবে। তবে বর্তমানে কর্মরত যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ইতিমধ্যেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে সব শিক্ষক-শিক্ষিকা ইতিমধ্যে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন, যে অধিকার তারা পেয়েছেন, তা আমরা খর্ব করছি না। শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসাবে নতুনভাবে যাঁরা নিযুক্ত হবেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না।’ একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘কেরল ছাড়া কোনো রাজ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন না। তাহলে পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন কেন?’ 
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই নয়া বিধি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্যই এই সিদ্ধান্ত, বলছে সরকার। তবে শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন একাধিক শিক্ষক সংগঠন। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানিয়েছেন, ‘গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড অথবা এইডেড স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাঁরা যাতে প্রতিবাদ করতে না পারেন, তার জন্যই কি এই ব্যবস্থা? কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও যথাযথ দাবি-দাওয়া তুলে ধরাও রাজনীতি হিসাবে গণ্য হবে না তো?’ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন এ কথা বলেছেন জানি না। শিক্ষকরা যদি পঠন-পাঠনের বিষয়টি ঠিক রেখে রাজনীতি করেন, তাতে সমাজেরই ভালো!’