Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেকর্ড হুগলির ৩ পড়ুয়ার, অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ব-সাত্ত্বিক-সুমেধার

হাওড়া রাইফেল ক্লাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ওপেন এয়ার রাইফেল শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল।

রেকর্ড হুগলির ৩ পড়ুয়ার, অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ব-সাত্ত্বিক-সুমেধার
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া রাইফেল ক্লাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ওপেন এয়ার রাইফেল শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল। সেখানে পদক জিতেছে অপূর্ব পোদ্দার, সাত্ত্বিক শীল ও সুমেধা হালদার নামে তিন ছাত্র-ছাত্রী। আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে এই তিনজন চায় ভবিষ্যতে অলিম্পিকে অংশ নিতে। 

Advertisement

ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ১৩ থেকে ১৮ মে হাওড়ায় চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল। অংশ নিয়েছিল রাজ্যের ২৬টি ক্লাব ও ইউনিটের মোট ৪৭০ জন প্রতিযোগী। সাব ইউথ, ইউথ, জুনিয়র ও সিনিয়র এই চার বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। সিনিয়র মেন ও জুনিয়র ম্যান বিভাগে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল পিপ সাইটে চারশোতে চারশো স্কোর করে রিষরার বাসিন্দা অপূর্ব পোদ্দার। ইউথ বিভাগে চারশোয় চারশো স্কোর করে বৈদ্যবাটির সাত্ত্বিক শীলও। দু’জনেই পেয়েছে গোল্ড মেডেল। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় এই প্রথমবার একই ক্লাবের দু’জন ফুল স্কোর করে রেকর্ড গড়ল। নজর কেড়েছে শ্রীরামপুরের সুমেধা হালদারও। সাব ইউথ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছে এই স্কুল পড়ুয়া। তিন শ্যুটারকে এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরের প্রতিযোগিতার জন্য গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে হাওড়া রাইফেল ক্লাব। 
ক্লাবের কোচ সঞ্জু ঘোষের কাছে গত দু’বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অপূর্ব, সাত্ত্বিক ও সুমেধা। অপূর্ব হুগলির একটি কলেজের স্নাতকস্তরের পড়ুয়া। সাত্ত্বিক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সুমেধা একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। শ্যুটিং অনুশীলন চালিয়ে যেতে চায় এই তিন কৃতী। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল খরচ। জানা গিয়েছে, প্র্যাকটিসের জন্য প্রয়োজনীয় কিটের দাম প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ভালো মানের একটি রাইফেলের দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। কিন্তু টাকার অভাবে সেকেন্ড হ্যান্ড রাইফেল দিয়েই প্র্যাকটিস করতে হচ্ছে ওদের। কোচ বলেন, ‘ওদের প্রচুর সম্ভাবনা। ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে ওরা। স্পনশরশিপ পেলে ভালো রাইফেল কিনতে পারবে।’ তিনি জানান, রাইফেল শ্যুটিংয়ে বাংলার নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের প্রচুর সম্ভাবনা। কিন্তু শুধু খরচের জন্য অনেকেই এগিয়ে আসতে চায় না। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এই রাজ্যের জয়দীপ কর্মকার। ২০১৬ সালে রিয়াল অলিম্পিকে সুযোগ পেয়েছিলেন মেহুলি ঘোষ। এবার অপূর্ব, সাত্ত্বিক ও সুমেধার মত পড়ুয়াদের হাত ধরে বাংলায় পদক আসুক চান কোচ।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ