নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কানাইপুরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুন মামলার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস। এদিন ওই ঘটনায় অভিযুক্ত অসীম মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে তার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তা দেখতে এদিন এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে গিয়েছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন প্রতিবেশী কিশোরীকে বিস্কুট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন মদ্যপ অসীম। তিনি ওই কিশোরীর বাবার বন্ধু ছিলেন। সেই কারণে মূক ও বধির ওই কিশোরীর বাড়িতে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল।
এদিকে, বাড়ি থেকে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া, তারপর কানাইপুরের রবীন্দ্রপল্লির বাঁশঝাড়ে নিয়ে যাওয়া থেকে সমস্ত ঘটনা আরও একবার অসীমকে করে দেখাতে বলে পুলিস। অভিযুক্ত ঘটনার দিন যেভাবে পদক্ষেপ করেছিলেন, এদিনও সেভাবেই সবটা করে দেখান। পুলিস জানিয়েছে, ধর্ষণের সময়ে ওই কিশোরীর গোঙানি রুখতেই তাকে খুন করেছিলেন অসীম।
ইতিমধ্যেই এটি একটি হাই প্রোফাইল মামলার চেহারা নিয়েছে। গোটা ঘটনায় পরিবারের পাশে থেকে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে গিয়ে সওয়াল করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কিশোরীর বাড়ি তাঁরই লোকসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও কল্যাণ দিয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মৃতদেহের বিশেষ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থাও করানো হয়েছে। মামলা রুজু হয়েছে পকসো আদালতে। প্রথম দিনের সওয়ালেই ফাঁসির মতো কড়া সাজার দাবির পাশাপাশি দ্রুত বিচার শেষ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন কল্যাণ। এদিনের পুনর্নির্মাণ পর্বেও পুলিস যে দ্রুত চার্জশিট দিতে চায়, সেই ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রসঙ্গত, মে মাসের শেষ দিকে ওই ভয়াবহ ঘটনা উত্তরপাড়ার কানাইপুরে ঘটেছিল। ঘটনার তিনদিন পরে কিশোরীর মৃতদেহ বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হয়। অসীম পালিয়ে ডানকুনিতে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। মৃতদেহ উদ্ধারের রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। নিজস্ব চিত্র