Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ভূতুড়ে ‘নিউট্রিনো’ কণা ধরার স্বীকৃতি, পদার্থবিদ্যায় নোবেল হালজেনকে

মহাবিশ্ব থেকে প্রতি মুহূর্তে ভেসে আসে লক্ষ লক্ষ মহাজাগতিক কণা নিউট্রিনো। ক্ষতিকর নয় বটে। তবে এই কণা যাচাই করলে মিলতে পারে মহাজাগতিক নানা অজানা সূত্র।

ভূতুড়ে ‘নিউট্রিনো’ কণা ধরার স্বীকৃতি, পদার্থবিদ্যায় নোবেল হালজেনকে
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্টকহোম: মহাবিশ্ব থেকে প্রতি মুহূর্তে ভেসে আসে লক্ষ লক্ষ মহাজাগতিক কণা নিউট্রিনো। ক্ষতিকর নয় বটে। তবে এই কণা যাচাই করলে মিলতে পারে মহাজাগতিক নানা অজানা সূত্র। সমস্যা হল, এ কণা ধরা দেয় না। বলা ভালো ধরা যায় না। কারণ, এ কণা বড়ই ‘ভূতুড়ে’। এর ভর প্রায় শূন্য। এর কোনো আধানও নেই। কারও সঙ্গে মেশে না। এ কণা ধরার জন্য একটি উপায় বার করেন বেলজিয়ান-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। সেই আশির দশকে বরফাচ্ছন্ন অ্যান্টার্কটিকায় বসিয়ে ফেলেন বিরাট এক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সাফল্যও মেলে। ‘লাজুক’ এই কণা ধরা দিয়েছে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। আর এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসাবে ২০২৬ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হল এই অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্টকে। নোবেল পুরস্কার প্রাপক হিসাবে হালজেনের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, ‘একদল আন্তর্জাতিক গবেষকের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন। তাঁরা একটা যুগান্তকারী যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন।’ আর হালজেন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তাঁর চেষ্টা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী জ্যোতির্বিদ্যার নতুন একটি ক্ষেত্র খুলে দিয়েছে।’ 

Advertisement

এখন ইতালিতে রয়েছেন হালজেন। নোবেল প্রাপ্তির খবর পাওয়ার পরেই ফোনে তিনি জানান, ‘যখন এই প্রকল্প আমরা শুরু করেছিলাম, তখন সকলে ভাবত এটা একটা দারুণ পরিকল্পনা। তবে এটা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। এই দলে আমিও পড়ি। তাই এটা ছিল একটি রোমাঞ্চকর অভিযান। তবে সাফল্য নিশ্চিত ছিল না।’ 
১৯৮৮ সালে উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হালজেন প্রথম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারবেটরি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই দূরদর্শী ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে দক্ষিণ মেরুতে বিশ্বের বৃহত্তম নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়।তিনি দক্ষিণ মেরুর ১ ঘন কিলোমিটার জুড়ে থাকা আদিম ও নিরেট বরফখণ্ডকেই একটি প্রকাণ্ড টেলিস্কোপে পরিণত করার পরিকল্পনা করেন। এই প্রজেক্টের অধীনে বরফের গভীরে প্রায় দেড় থেকে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর গর্ত করে হাজার হাজার আলোক সেন্সর  বসানো হয়েছে। ২০১১ সালে আইসকিউব-অবজারভেটরি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়। তীব্র গতিসম্পন্ন নিউট্রিনো যখন বরফের পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ ঘটায়, তখন উৎপন্ন হওয়া মৃদু নীল আলো এই সেন্সরগুলো শনাক্ত করে মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্যের সন্ধান দেয়। ২০১৩ সালের মধ্যে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে তাঁরা সত্যি সত্যিই সৌরজগতের বাইরের গভীর মহাবিশ্ব থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পেরেছেন। এসব কণা কী ধরণের মহাজাগতিক পরিবেশে তৈরি হয় ভবিষ্যতে গবেষণায় সেব্যাপারে অজানা তথ্য উন্মোচিত হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ