লিডস: ১৬-২-৫৭-০। এটাই যশপ্রীত বুমরাহর বোলিংয়ের হিসাব। মহম্মদ সিরাজ? ১৪-১-৫১-০। রবীন্দ্র জাদেজা ২৪ ওভার হাত ঘুরয়ে ১০৪ রান খরচ করে নেন একটি উইকেট। সেটাও পঞ্চম দিনের স্পিন সহায়ক পিচে। দলের সেরা তিন বোলারের এমন অবস্থা হলে ম্যাচ জেতাবেন কে? প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা বা শার্দূল ঠাকুর বড়জোর ঠেকনা দিতে পারেন। তাঁদের গেমচেঞ্জার ভাবা ভুল। বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংও ডোবাল ভারতকে। একগাদা ক্যাচ পড়ল। একা যশস্বীই ফেললেন চারটি ক্যাচ। পাঁচটি সেঞ্চুরির পরও ম্যাচ হারা নজিরহীন। প্রায় একশো বছর আগে, ১৯২৮-২৯ মরশুমে মেলবোর্নে চারটি সেঞ্চুরি করেও টেস্ট হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
টেস্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে লজ্জার হার দিয়ে শুরু করলেন গিল। এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাঁর রাতের ঘুম কাড়তে বাধ্য দায়সারা বোলিং-ফিল্ডিং। আসলে গম্ভীরের ফাঁপানো বেলুনে পিন ফুটিয়ে দিলেন ডাকেটরা। ২৫ জুন ভারতীয় ক্রিকেটের সূর্যোদয় দেখেছিল লর্ডস। ১৯৮৩’র বিশ্বকাপ জিতেছিলেন কপিল-সানিরা। আর ২০২৫ সালের ২৪ জুন সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই মুখ থুবড়ে পড়ল গিলের ভারত।
মঙ্গলবার সাড়ে তিনশোর পুঁজি নিয়েও খাবি খেলেন সিরাজরা। বোঝা উচিত, মুখে জিঙ্ক অক্সাইড মাখলেই অ্যালান ডোনাল্ড হওয়া যায় না। আলু আর আলুবখরায় তফাত তো থাকবেই। হেডিংলের আকাশ মাঝেমধ্যেই মেঘলা। কালো মেঘের দোসর ঝিরঝিরে বৃষ্টি। এমন আবহ পেসারদের স্বর্গরাজ্য। লাল বলের নড়াচড়া ব্যাটারের বুকে কাঁপুনি ধরাবেই। সামান্য ভুলচুক মানেই অবধারিত খোঁচা। অথচ হল ঠিক উল্টোটা। ক্রলি, ডাকেটরা ব্যাট করলেন কলার তুলে। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ক্লাবস্তরে নামিয়ে আনলেন সিরাজদের। জাদেজার জন্য ছিল রিভার্স ফ্লিক, সুইপের দাওয়াই।
অবশ্য ফিল্ডিংও রক্তচাপ বাড়িয়েছে বোলারদের। যশস্বী ক্যাচ ফেলায় একবার রীতিমতো রেগে যান বোলার সিরাজ। তরুণ তুর্কির উপর ক্ষোভ উগরে দিতেও দেখা যায় তাঁকে। ড্রেসিং-রুমে বিরক্ত দেখায় কোচ গৌতম গম্ভীরকেও। পন্থ অবশ্য দুই ইনিংসেই শতরান হাঁকিয়েছেন। কিন্তু করুণ ‘ভুলে ভরা’ নায়ার? তাঁকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া উচিত।