নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নাম একই। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ‘চুরি’ করা হয়েছিল ২০০২ সালের আসল ব্যক্তির ক্রমিক সংখ্যা। তাতে আবার খসড়া তালিকায় উঠে গিয়েছে ‘নকল’ ব্যক্তির নাম! চরম বিপাকে পড়ে শেষমেশ আত্মপরিচয় প্রমাণের তাগিদে শান্তিপুরের বিডিওর দ্বারস্থ মূল ‘দাবিদার’। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক জলঘোলা হচ্ছে শান্তিপুরের রাজনীতিতে।
ঘটনাটি নদীয়ার রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের শান্তিপুর ব্লকের নারায়ণপুর পশ্চিম এলাকার। বুথ নম্বর ৩৪। অভিযোগকারী ভোটারের নাম নিখিল মণ্ডল। পিতার নাম গজেন মণ্ডল। তিনি জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও চলতি খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁকে ‘নিখোঁজ’ দেখানো হয়েছে। অথচ একই বুথের বাসিন্দা আরেক নিখিল মণ্ডল, যাঁর পিতার নাম ঋষিপদ মণ্ডল, তাঁর নাম খসড়া তালিকায় রয়ে গিয়েছে। কেবল কারসাজি করে ইনিউমারেশন ফর্মে ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর ক্রমিক সংখ্যা। অভিযোগ, ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় থাকা গজেন মণ্ডলের ছেলে নিখিল মণ্ডলের ক্রমিক নম্বর ‘চুরি’ করে অন্য নিখিল মণ্ডল নিজের নামে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। দু’জনের নাম এক হলেও পিতার নাম আলাদা। ওই ভোটার তালিকায় আসল নিখিলের নাম রয়েছে ২০০২ শান্তিপুর বিধানসভা নির্বাচনী ক্ষেত্রের ৪২ নম্বর বুথে। গজেন মণ্ডলের ছেলে নিখিলের নাম রয়েছে ২৪৩ নম্বরে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এই ম্যাপিং সম্ভব হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগকারীর দাবি, এ কাজ বিএলওর ইচ্ছাকৃত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএলও মধুপর্ণা চৌধুরী। তাঁর দাবি, শীঘ্রই প্রকৃত ভোটারের নাম নতুন করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং অন্য নিখিল মণ্ডলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সামান্য সমস্যা হলেও বিষয়টি মিটে যাবে দ্রুত। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ‘নিখোঁজ’ দেখানো ভোটারকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার রানাঘাটের বিডিও অফিসে যান বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিএলওকে দায়ী করেন এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানোর আশ্বাস দেন। শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, তিন বছরের কাজ তিন মাসে করতে গেলে এই ধরনের সমস্যা তো হবেই। ফলে যা সমস্যা বা ত্রুটি হওয়ার তা হচ্ছে। সবটাই তো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক হচ্ছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এসআইআর নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।