মাদ্রিদ: কথায় আছে, ‘রিয়াল পিছিয়ে থাকলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রাতটা দীর্ঘায়িত হয়।’ গত এক দশকে একাধিকবার এই প্রবাদকে সত্যি প্রমাণ করেছেন ভিনিসিয়াস-লুকা মডরিচরা। তাই তো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর রিয়াল মাদ্রিদ ক্রমশ সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে। শেষ ১১ বছরে ছ’বার চ্যাম্পিয়ন। তবে চলতি মরশুমে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে আর্সেনালের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছে কার্লো আনসেলোত্তি ব্রিগেড। শেষ আটের লড়াইয়ে প্রথম লেগে এমিরেটসে তিন গোল হজম করেন কিলিয়ান এমবাপেরা। সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ঘরের মাঠে অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জিততে হবে রিয়ালকে। তিন গোলের ব্যবধান থাকলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। তবে দুরন্ত ছন্দে থাকা সাকা-ওডেগার্ডদের বিরুদ্ধে লড়াইটা যে কঠিন তা ভালোই জানেন আনেসেলোত্তি। যদিও তা অসম্ভব নয়। তাই বুধবার ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও এক ঐতিহাসিক কামব্যাকের আশায় বুক বাঁধছেন রিয়াল অনুরাগীরা। পক্ষান্তরে, ঘরের মাঠের ফর্ম বজায় রেখে প্রতিপক্ষের ডেরায় দুর্গ অক্ষত রাখাই লক্ষ্য গানারদের।
চলতি মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে রিয়ালের খেলাতে। গ্রুপ পর্বে একের পর হারে একটা সময় তাদের পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছনোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে শেষ কয়েকটি ম্যাচ জিতে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। এরপর ম্যান সিটির চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টাই-ব্রেকারে আতলেতিকোকে হারায় রিয়াল। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্সেনালের বিরুদ্ধে এভাবে যে দলের মুখ থুবড়ে পড়বে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি কোচ আনসেলোত্তি। মূলত ডেকলান রাইসের দুরন্ত ফ্রি-কিকের কাছেই বশ মানে রিয়াল। তারউপর প্রথম লেগে লাল কার্ড দেখায় বুধবার কামাভিঙ্গাকে পাবে না তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের জন্য আরও একবার এমবাপের দিকে তাকিয়ে রিয়াল। তবে ডিফেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। বিশেষত এডার মিলিতাও, ড্যানি কার্ভাহালের অভাব পূরণ করতে ব্যর্থ বাকিরা।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা অবশ্য কোনওরকম আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ। তিনি জানেন, ঘরের মাঠে যে কোনও প্রতিকূলতাকে জয় করার দক্ষতা রয়েছে রিয়ালের। তাই প্রথম লেগের জয় ভুলে ফিরতি ম্যাচে নতুন করে লড়াই শুরু করাই লক্ষ্য গানারদের। রিয়ালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে ইপিএলের শেষ ম্যাচে বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ আর্তেতা। বুধবার অবশ্য পূর্ণশক্তির দল সাজাতে চলেছেন তিনি।
দিনের অপর ম্যাচে ইন্তার মিলানের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হেরে মাঠ ছেড়েছিলেন হ্যারি কেনরা। বুধবর সান সিরোয় তাঁরাও ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। পক্ষান্তরে, ঘরের মাঠে জয়ের ধারা বজায় রাখাই লক্ষ্য ইন্তার মিলানের।