নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন একজন। আর চালক সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন অন্য একজন। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। গোল বাঁধল পুলিস গাড়ির মালিককে নোটিস পাঠানোয়। বারবার নোটিস গেলেও থানায় আসছিলেন না মালিক। তখন আদালতের অনুমতি নিয়ে আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তিকে জেরা করতেই বেরিয়ে এল আসল তথ্য। জানা গেল, তিনি চালক ছিলেন না। ড্রাইভিং সিটে আসলে বসেছিলেন তাঁরই বন্ধু। ওই বন্ধুকে বাঁচাতেই সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে আদালতে আত্মসপর্মণ করেন তিনি। তারপরই বুধবার রাতে গাড়ির আসল চালক ওই ‘বন্ধু’কে গ্রেপ্তার করেছে বালিগঞ্জ থানার পুলিস।
আদালত সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝরাতে একটি বিলাসবহুল গাড়ি এক বাইকচালককে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত বাইকচালককে পুলিস উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। তদন্তে নেমে পুলিস ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। চিহ্নিত করা হয় ওই গাড়িকে। ফুটেজে ধরা পড়ে, গাড়িতে চারজন ছিলেন। গাড়ির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে মালিককে চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, গাড়িটি চড়েন কেন্দ্রীয় সংস্থায় কর্মরত এক আধিকারিক। কিন্তু তাঁর কাছে নোটিস পাঠানো হলেও কেউ হাজির হচ্ছিলেন না। এর মাঝেই পুলিস জানতে পারে, গাড়ির চালক আত্মসমর্পণ করেছেন। এতে সন্দেহ হয় পুলিসের। নোটিস পেয়েও যে মালিক আসছেন না, তিনি কেন আত্মসমর্পণ করলেন? ফের নোটিস যায়। তাতেও কোনও জবাব মেলেনি। পুলিস তখন সন্দেহ করে, কোনও একটা গোলমাল রয়েছে। এরপরই চালক হিসেবে যিনি আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে আবেদন করা হয় আলিপুর আদালতে।
অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, তিনি ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন জানিয়ে দেয়, ওইদিন তিনি গাড়িতেই ছিলেন না। কথায় কথায় তিনি জানান, তাঁর বন্ধু গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বন্ধুকে বাঁচাতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই আত্মসমর্পণ করবেন। জামিনযোগ্য ধারা রয়েছে বলে জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন। এরপরই ওই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে মামলায় নতুন ধারা যুক্ত করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।