নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিত করতে তৎপর কৃষিদপ্তর। শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে পুনরায় যাচাই। নদীয়া জেলার প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার কৃষক বন্ধু উপভোক্তার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, উভয়ের নামেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা ঢুকছে কি না। ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের নির্দিষ্ট ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। সেখানে স্বামী ও স্ত্রীর উভয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃত চাষিদের পাশাপাশি অযোগ্য উপভোক্তা ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে একই জমি একাধিক শরিকের নামে ভাগ করে পৃথকভাবে আবেদন করার প্রবণতায় উপভোক্তার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দপ্তরের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
জেলা কৃষিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নদীয়ায় মোট ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার কৃষক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী। তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষ ২৪ হাজার পিএম-কিষান এবং ৪ লক্ষ ৩০ হাজার কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। অতীতে পিএম-কিষান প্রকল্পের ভুয়ো উপভোক্তার থেকে সরকারি টাকা ফেরত নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবার কৃষক বন্ধু প্রকল্পেও কড়া যাচাই শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‹আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান› কর্মসূচিতে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ঘটনা সামনে আসছে বলে কৃষিদপ্তর সূত্রের দাবি। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই তা বর্তমান নিয়মের মধ্যেই হয়েছে। কারণ জমির মালিকানা থাকলেই আবেদনকারী প্রকল্পের আওতায় আসছেন।
বর্তমানে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নতুন আবেদন বা জমির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মালিকের নথিও যাচাই করা হচ্ছে। তবুও দেখা যাচ্ছে, পরিবারের একজনের নামে থাকা জমির অংশ অন্য সদস্যের নামে হস্তান্তরের পর তিনিও পৃথক উপভোক্তা হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কৃষি আধিকারিকদের একাংশের মতে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের লক্ষ্য প্রকৃত চাষিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এমন বহু উপভোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সরাসরি চাষের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও জমির মালিকানার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। তাই এবার তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে একজন কৃষক সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান। খারিফ ও রবি, দুই মরশুমে দুই কিস্তিতে সেই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কৃষিদপ্তরের আশা, চলতি পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের স্বচ্ছতা আরও বাড়বে এবং প্রকৃত কৃষকরাই ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।a