


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আজ, বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন। রাজ্যে দু’দফার ভোটে যেরকম আঁটসাঁট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন, এক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কমিশনের নিয়ম মেনে চিহ্নিত করা হয়েছে ১০০টি স্পর্শকাতর বুথ। তবে এই পুনর্নির্বাচনে কোনো মহিলা পরিচালিত বুথ থাকছে না। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে আগেই ৩৩ জন কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে ‘বাউন্ড ডাউন’ করা হয়েছে। বুধবার ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভিএম বিতরণ ও সংগ্রহের কেন্দ্র থেকে সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে রওনা হয়েছেন ভোটকর্মীরা। শেষ বেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ফলতায় ২৮৫টি বুথের মধ্যে ১৮৫টিতে কোনো সমস্যা নেই। ৮৮টি স্পর্শকাতর হিসাবে ধরা হয়েছে। তাছাড়া, যেখানে ভীত ভোটার রয়েছেন বা গোলমাল প্রবণ এলাকা, এমন ১২টি বুথকেও স্পর্শকাতর বুথের তালিকায় ফেলা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিনে ফলতায় একাধিক মহিলা পরিচালিত বুথ থাকলেও পুনর্নির্বাচনে তা না রাখার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে কমিশন। এছাড়াও ভোটে অশান্তি রুখতে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সেরকম ১৩০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর। গত ২৯ এপ্রিল যেসব সরকারি কর্মীর ফলতায় ভোটের দায়িত্ব পড়েছিল, তাঁদের অনেকেই পুনর্নির্বাচনে ডিউটি নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। এখানকার গোলমালের ইতিহাস মাথায় রেখে একাধিক ভোটকর্মী জানিয়েছিলেন, তাঁরা রীতিমতো ভয়ে আছেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। এদিন ভোটের ডিউটি করতে আসা শিক্ষক ও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের শারীরিক ভাষাই বলে দিয়েছে, আতঙ্ক নয়, বরং উৎসাহের সঙ্গেই তাঁরা ফলতায় ভোট নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। তার উপর তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করতেই দ্বিগুণ হয়েছে গ্রামবাসীদের উচ্ছ্বাস। এদিকে ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হরিণডাঙা ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় এদিন বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। এতদিন যাঁরা হয় ভোট দিতে পারেনি বা ভয়ে ভয়ে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা খোলা মনে ভয়কে পিছনে ফেলে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন বলে খবর। ইভিএম নিয়ে বুথের পথে ভোটকর্মীরা।-নিজস্ব চিত্র