Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

মোবাইলে আরসিবি ক্যাপ্টেন রজত পাটীদারের সিম, কোহলি-ডিভিলিয়ার্সের ফোন, ‘আত্মহারা’ যুবক

হ্যালো...। বিরাট কোহলি বলছি। ফোনটা পেয়ে প্রথমে থতমত খেয়ে গিয়েছিলেন ছত্তিশগড়ের মণীশ বিশি। তাঁর মতো একজন সাধারণ যুবককে নাকি ফোন করেছেন স্বপ্নের নায়ক কোহলি!

মোবাইলে আরসিবি ক্যাপ্টেন রজত পাটীদারের সিম, কোহলি-ডিভিলিয়ার্সের ফোন, ‘আত্মহারা’ যুবক
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: হ্যালো...। বিরাট কোহলি বলছি। ফোনটা পেয়ে প্রথমে থতমত খেয়ে গিয়েছিলেন ছত্তিশগড়ের মণীশ বিশি। তাঁর মতো একজন সাধারণ যুবককে নাকি ফোন করেছেন স্বপ্নের নায়ক কোহলি! ঘোর কাটার আগে আরও একটা ফোন। উল্টো দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ব্যাটার এবি ডিভিলিয়ার্স। নামটা শুনেই হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। কোনও ক্রমে সামাল দিয়েছিলেন মণীশ। পরের কথা ইংরেজিতে ভেসে আসায় বাকিটা বুঝতে পারেননি। প্রথমে ভেবেছিলেন বন্ধুরা বোধহয় মজা করছে। কিছু সময় কাটতেই গরিয়াবন্দ জেলার মাদাগাঁও গ্রামের ওই যুবক বুঝতে পারেন স্বপ্ন নয়, গোটাটাই সত্যি! কারণ, ওই নম্বরটি অতীতে জনপ্রিয় ক্রিকেটার রজত পাটীদারের নামে ছিল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরু (আরসিবি) অধিনায়ক রজত সেই নম্বরটি আর ব্যবহার করছিলেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেটি বন্ধ করে দেয়। পরে ওই নম্বরের ভিত্তিতেই নয়া সিম ইস্যু করে তারা। সেটিই কিনেছিলেন মণীশ। আর ওই নম্বরটি যে পাটীদার আর ব্যবহার করছেন না, তা বিরাট কোহলি বা ডিভিলিয়ার্সদের জানা ছিল না। তাই তাঁদের ফোন রজতের বদলে মণীশের মোবাইলে ঢুকত। প্রশাসনিক মধ্যস্থতায় সেই সিম পুরনো মালিকের কাছে ফেরত গিয়েছে। তার জেরে নয়া নম্বর খোয়াতে হলেও বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই ছত্তিশগড়ের ওই যুবকের। বলছেন, এই সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, বন্ধুরা মজা করছে। কিন্তু, গত ১৫ জুলাই পাটীদার নিজেই ফোন করেছিলেন। নম্বরটি ফেরত দিতে বলেন। পরে বাড়িতে পুলিস আসতেই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারি।

Advertisement

গোটা পর্বে মণীশের সঙ্গেই ছিলেন তাঁর বন্ধু খেমরাজ। তিনি বলছিলেন, ‘ওই সিম ফোনে ঢোকানোর পরেই হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করি। তখনই প্রোফাইল পিকচারে রজত পাটীদারের ছবি ভেসে আসে। আমরা ভেবেছিলাম প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। এরপরই কোহলি, ডিভিলিয়ার্সের মতো ব্যক্তিত্বদের ফোন আসতে থাকে। অন্য বন্ধুরা মজা করছে ভেবে গুরুত্ব দিইনি।’ মণীশের ফোন হলেও কোহলির ফোন ধরেছিলেন খেমরাজ। সবচেয়ে পছন্দের ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিভূত। কিছুতেই সেই স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। চোখে-মুখে একরাশ উত্তেজনা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘কোনওদিন বিরাট কোহলির সঙ্গে কথা বলব, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। এবি ডিভিলিয়ার্স ইংরেজিতে কথা বলছিলেন। আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। কিন্তু, আমাদের খুব ভালো লেগেছে।’ সিম বিভ্রাটের জেরে খ্যাতনামা ব্যক্তিদের ফোন আসার খবর গোটা গ্রামেই রটে যায়। স্থানীয়দের মধ্যে রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সকলেই বেশ খুশি। মণীশের দাদা দেশবন্ধু বলছিলেন, এধরনের ফোন পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। 
এই বিষয়ে গরিয়াবন্দ ডিএসপি নেহা সিনহা জানিয়েছেন, ৯০ দিন ব্যবহার না করায় পাটীদারের সিম নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওই ক্রিকেটার মধ্যপ্রদেশ সাইবার সেলে যোগাযোগ করেছিলেন। নম্বরটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন তিনি। মণীশ ও তাঁর পরিবারের সম্মতিক্রমে সিমটি পাটীদারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ