নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য ঝাড়গ্রামের লীলাবতী শিক্ষাসদন দীর্ঘদিন ধরে ভেঙেচুরে পড়ে রয়েছে। দোতলার দরজা, জানলা অনেক আগে চুরি হয়ে গিয়েছে। দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে ইঁট বেরিয়ে পড়েছে। ঝোপঝাড়ে ভর্তি বিদ্যালয় চত্বর সাপখোপের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধনে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং। বহু ইতিহাসের সাক্ষী স্কুলটির সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
Advertisement
ঝাড়গ্রামের বাঁধগড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বাঁশতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত। বিশ শতকের তিরিশের দশকে ব্যারিস্টার গিরিজাভূষণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি চালু হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্থাপিত শান্তিনিকেতনের আদলে স্কুলের নামকরণ করা হয়েছিল ‘বোধনা নিকেতন’। ঝাড়গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ের সূচনা। উদ্বোধনের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, ‘লুপ্তম সর্বম্ দৈববশাৎ নবী ভূতম পুন্ করু।’ দৈববশে যা লুপ্ত হয়ে গেছে তাকে পুনরায় জাগাও। কবির বন্ধু ও বিশিষ্ট সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আর্থিক কারণে বিদ্যালয়টি পরে বন্ধ হয়ে যায়। সত্তরের দশকে আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মন্মথ রায়ের মতো মনীষীদের উদ্যোগে নতুন করে বিদ্যালয়টি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যবসায়ী তারপদ সাউ আর্থিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। তাঁর স্ত্রীর নামেই বিদ্যালয়ের নতুন নামকরণ হয়। যদিও এলাকার বাসিন্দারা কাছে প্রতিষ্ঠানটি বোধনা নিকেতন নামেই পরিচিত। স্কুলটি তারপরেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাম আমল স্কুলটিকে সরকারি করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে স্কুলটি বেহাল। জেলার বাসিন্দা শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার দেবলীনা দাসগুপ্ত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। জেলার বাসিন্দা হিসেবে চাই বিদ্যালয়টি চালু হোক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অরণ্যসঙ্কুল এই জনপদে কবির হয়তো শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অভিপ্রায় ছিল। বিদ্যালয়টি নতুন করে চালু হলে তা সাধুবাদযোগ্য হবে।
শিল্পী সুবীর বিশ্বাস বলেন, সেইসময় এই জেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যে উদ্যোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলার মণীষীরা জড়িয়ে ছিলেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠান অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে প্রশাসন থেকে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, স্কুলটির সঙ্গে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে। জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্কুলটির চালু করার বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন। গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা দিলীপ রায় বলেন, বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই স্কুল বাড়ি। সংরক্ষণ না করা গেলে জেলার এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস হারিয়ে যাবে।
শিল্পী সুবীর বিশ্বাস বলেন, সেইসময় এই জেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যে উদ্যোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলার মণীষীরা জড়িয়ে ছিলেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠান অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে প্রশাসন থেকে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, স্কুলটির সঙ্গে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে। জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্কুলটির চালু করার বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন। গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা দিলীপ রায় বলেন, বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই স্কুল বাড়ি। সংরক্ষণ না করা গেলে জেলার এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস হারিয়ে যাবে।



