নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যে কোনো পণ্য অনলাইনে অর্ডার করা হলে যাঁরা ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেন, সেই ডেলিভারি কর্মীকেই অর্থনীতির পরিভাষায় গিগ ওয়ার্কারের আখ্যা দেওয়া হয় মূলত। এই দশকের শেষে দেশে গিগ ওয়ার্কারের সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রম ও কর্মসংস্থানে তাদের ভূমিকা ক্রমবর্ধমানই শুধু নয়, প্রায় ঝড়ের মতো বাড়ছে। সেই কারণেই এবার এই গিগ কর্মীদের জন্য বিশেষ কিছু সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাংক। ডেলিভারি কর্মীদের সবথেকে প্রয়োজনীয় হল বাহন। তাই স্কুটার ও মোটরবাইক কেনার ক্ষেত্রে লোন নেওয়ার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে শ্রমমন্ত্রকের ‘ই শ্রম’ পোর্টালে গিগ ওয়ার্কার হিসেবে নথিভুক্ত ব্যক্তিদের। সেক্ষেত্রে কম সুদে দীর্ঘ সময়ের ঋণ মঞ্জুর করবে ব্যাংক। পাশাপাশি পেনশন যোজনার অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে।
ইতিমধ্যে গিগি ওয়ার্কারদের নিয়ে নিজস্ব স্টেটাস রিপোর্ট তৈরি করছে রিজার্ভ ব্যাংক। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রককে এই নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে পৃথক ডেটাবেস তৈরি করছে কেন্দ্রীয় সরকারও। শ্রমমন্ত্রকের ‘ই শ্রম’ পোর্টালে ২২ জুনের মধ্যে এই ডেটাবেস আপলোড করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বণিকসভা ফিকি আয়োজিত আলোচনাসভায় শ্রমমন্ত্রকের এক আধিকারিক এই রূপরেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাংক যে রোডম্যাপ তৈরি করতে চাইছে সেটি হল, এই ডেলিভারি কর্মীরা যাতে সরাসরি কয়েকটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং এই পেশাকে শ্রমমন্ত্রকের পোর্টালে স্বীকৃতি দিয়ে ব্যাংকঋণের সুযোগ করে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কখনও গিগ কর্মী, কখনও অটো চালক, কখনও স্টেশনের কুলিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন অথবা তাদের সমস্যা শুনছেন। সংসদে উত্থাপনও করছেন তাদের ইস্যু। আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে যদি রাহুল গান্ধী এই নিয়ে আবার প্রশ্ন উত্থাপন করেন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা বলা হবে বলেই সূত্রের দাবি।