Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রবিচাষে ডিভিসির জল ছাড়া শুরু ৫ই, খুশি আরামবাগ মহকুমার চাষিরা

রবিচাষে ডিভিসির জল ছাড়া শুরু ৫ই, খুশি আরামবাগ মহকুমার চাষিরা
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রবি চাষের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে জল ছাড়বে ডিভিসি। তার জেরে আরামবাগ মহকুমায় প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে চাষ হবে। উপকৃত হবেন চাষিরা। দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী সহ বিভিন্ন খালে বাঁধ দিয়ে সেচের কাজে ওই জল ব্যবহার করা হবে। তার জেরে সেচদপ্তর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে বোরো বাঁধ তৈরি নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। 
Advertisement
সেচদপ্তরের হুগলির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ বলেন, ডিভিসি ও কংসাবতী জলাধার থেকে রবি চাষের জন্য জল ছাড়া হবে। আরামবাগ মহকুমায় তা নদী ও খালের মাধ্যমে বইবে। সেই জন্য শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন খালের লক গেট দেখে নেওয়া হচ্ছে। সব পয়েন্টেই আমাদের দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা নজর রাখছেন।
খানাকুল-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা মণ্ডল বলেন, বোরো বাঁধ তৈরির জন্য টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ডিভিসি ৫ জানুয়ারি থেকে প্রথম দফায় জল ছাড়বে। একইসঙ্গে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে কংসাবতী ড্যাম থেকেও ১২ জানুয়ারি প্রথম দফার জল ছাড়া হবে। দামোদর থেকে মুণ্ডেশ্বরী নদী দিয়ে জল যাবে আরামবাগ, খানাকুল-১ ও খানাকুল-২ ব্লকের একাংশে। কংসাবতী থেকে ছাড়া জল ক্যানেলের মাধ্যমে দ্বারকেশ্বর নদে এসে পড়বে। তাছাড়া বর্তমানে দ্বারকেশ্বর নদে কিছুটা জল রয়েছে। প্রয়োজনমতো রিভার লিফক্টিং পাম্পের সাহায্যে দ্বারকেশ্বরের জল দিয়ে সেচ কাজ করতে পারবেন গোঘাট-১, ২ ও আরামবাগ ব্লকের একাংশের চাষিরা। তাছাড়া দ্বারকেশ্বর নদের উপরেও আরামবাগ, খানাকুল-১ ও খানাকুল-২ ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় বোরো বাঁধ দেওয়া হবে। এছাড়া মহকুমার একাধিক সেচ খালেও দেওয়া হয় বাঁধ। কোথায় কোথায় নদীতে বাঁধ দেওয়া হবে, তা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি ঘুরে দেখেছেন কৃষি ও সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।  চাষিদের দাবি, দ্রুত বোরো বাঁধ হয়ে গেলে আলু সহ বিভিন্ন চাষের সেচের কাজ করা সম্ভব হবে। না হলে জলের অভাবে সমস্যায় পড়তে হবে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আরামবাগ মহকুমায় আলু, সর্ষে সহ নানা ধরনের সব্জি চাষ হয়েছে। এখনও অনেক জায়গায় বীজ পোঁতার কাজ চলছে। তারসঙ্গে বোরো ধানের বীজতলার প্রস্তুতিতেও নেমেছেন খানাকুলের চাষিরা। ফলে নদীগুলিতে বোরো বাঁধ দ্রুত না হলে রবি চাষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। খানাকুলের চাষি উত্তমকুমার সামন্ত বলেন, জল ছাড়ার আগে আর বোরো বাঁধ তৈরি হবে না বলেই আমাদের আশঙ্কা। তাই দ্রুত যাতে বাঁধ দেওয়ার কাজ করা যায়, তার আবেদন প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ