নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: সার নিয়ে মাঝেমধ্যেই কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে। তাই রবি মরশুমের প্রথম থেকেই সতর্ক নজরদারি শুরু করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষিদপ্তর। সার কেনাবেচায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনায়। কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, মূলত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রবি ফসলের চাষ হয়। জেলার ক্ষেত্রে এখন ভুট্টা, গম, আলু সহ ফুলকপি, বাঁধাকপি, লঙ্কা ও শীতের শাকসব্জি চাষ হয়। ভুট্টা, গম, আলুর জন্য নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সারের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই সম্প্রতি জেলার ১৬০০ সার ব্যবসায়ীর সঙ্গে সচেতনতামূলক বৈঠক করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা ও চাষিদেরও। কয়েক দফায় সরেজমিনে অভিযানও চালিয়েছে দপ্তর। ইসলামপুর ব্লক ছাড়া অন্যান্য ব্লকে খুব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আলু চাষ হয় না। তবে এই সময়টা বিভিন্ন কারণে সারের কালোবাজারি লক্ষ্য করা যায়। কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, সার নিয়ে অনিয়মের জন্য এপ্রিল থেকে অন্তত ১৫০ জন সার ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়েছে। অন্তত ৪০ জন সার ব্যবসায়ীর দোকানে স্টপ সেলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিগত বছরে দু’জনের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে কোনও চাষিকে হয়ত ৫ প্যাকেট সার বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী বিল করার সময় ১০ প্যাকেটের বিল করে দিয়েছেন। যাতে বাড়তি পাঁচ প্যাকেট কালোবাজারি করা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে চাষির অজ্ঞানতার জন্যও সার নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠুভাবে প্রকৃত চাষিদের সারের প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এবার আধার কার্ডের নম্বর, নাম নিয়ে বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে সার কিনতে হবে চাষিদের। এতে সারের বিলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। জেলা কৃষি আধিকারিক প্রিয়নাথ দাস বলেন, চাষিদের মধ্যে একটা প্রবণতা রয়েছে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির ইউরিয়া, ডিএপি, ১০:২৬:২৬ সার কেনার। যার ফলে সংশ্লিষ্ট সেই কোম্পানির সার দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন কোম্পানির উৎকৃষ্টমানের সার থেকেই যায়। আর এর ফলে একাংশ অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নেয়। কৃত্রিমভাবে আকাল তৈরি করে সারের কালোবাজারি করার চেষ্টা করে। তাই আমরা সার ক্রয়ের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনায় জোর দিচ্ছি। এ ব্যাপারে আমার চাষি ও ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই সচেতন করছি। দোকানে দোকানে সারপ্রাইজ ভিজিট চলছে।



