Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রবি চাষে জল দেবে কংসাবতী জলাধার ১২ জানুয়ারি থেকে খুলবে লকগেট

রবি চাষে জল দেবে কংসাবতী জলাধার ১২ জানুয়ারি থেকে খুলবে লকগেট
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এবারও রবিচাষের জন্য কংসাবতী জলাধার থেকে জল দেওয়া হবে। আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে জলাধার থেকে জল ছাড়া হবে। মোট চার দফায় ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ওই জলধারের সেচ খালে জল ছাড়া হবে। তবে বোরো চাষের জন্য জল দেওয়া হবে না। চাষিরা যাতে ওই জলের ভরসায় বোরো চাষ না করেন, তারজন্য সেচদপ্তর প্রচার শুরু করেছে। কারণ এর আগে জলাধার থেকে ছাড়া জলে অনেকে বোরো চাষ করেছিলেন। পরে চাহিদামতো জল না পেয়ে চাষিরা বিক্ষোভ-আন্দোলনও করেন। তারপর থেকে সেচদপ্তর লিফলেট ছাপিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রচার করে আসছে। এবারও খাতড়া মহকুমা সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় লিফলেট বিলি করা হবে বলে সেচদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। 
Advertisement
যদিও চাষিদের মতে, বর্তমানে বাঁকুড়া ও আশপাশের জেলায় জোর কদমে রবিচাষ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই চাষিরা মাঠে আলু সহ অন্যান্য রবি ফসলের বীজ বপন করেছেন। ১২ জানুয়ারির আগে সেইসব গাছ অনেক বড় হয়ে যাবে। ফলে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ছাড়া জল রবি চাষের জন্য কতটা প্রয়োজন হবে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তাই দেরিতে পাওয়া জলে চাষিরা বোরো চাষের দিকেই ঝুঁকবেন বলে অনেকে মনে করছেন। সেক্ষেত্রে সেচদপ্তরের আশঙ্কা সত্যি হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।
কংসাবতী জলাধার থেকে জল ছাড়ার দায়িত্বে থাকা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বাঁকুড়ার মোট ১৩টি ব্লকের ৮৩ হাজার ৪২০ একর জমিতে আমরা জল পৌঁছে দেব। বাঁকুড়ার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হুগলি জেলার চাষিরাও আমাদের জলাধার থেকে জল পাবেন। ওই তিন জেলায় প্রায় ৪০ হাজার একর জমিতে জল যাবে। তবে আমরা শুধুমাত্র রবি চাষের জন্যই জল দেব। কংসাবতী প্রকল্পের ছাড়া জলে কেউ যাতে বোরো ধানের চাষ না করেন, তারজন্য চাষিদের সতর্ক করা হচ্ছে। এব্যাপারে আমরা লিফলেট ছাপিয়ে প্রচার করব। 
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কংসাবতী জলাধারের জল মূলত বাঁকুড়ার খাতড়া ও বিষ্ণুপুর মহকুমার ব্লকগুলিতে সেচখালের মাধ্যমে পৌঁছয়। খরিফ মরশুমে কংসাবতী প্রকল্পের জলে এজেলার জয়পুর ব্লকে সবচেয়ে বেশি ২১ হাজার ৪০০ একর জমিতে চাষ হয়। এছাড়াও রাইপুর, রানিবাঁধ, সারেঙ্গা, তালডাংরা, বিষ্ণুপুর ব্লক এলাকায় গড়ে আট হাজার একর এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৩০ হাজার এবং ঝাড়গ্রাম ও হুগলি জেলায় যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার ও সাড়ে তিন হাজার একর জমিতে রবি ফসলের চাষ হয়। 
সেচদপ্তর জানিয়েছে, কংসাবতী জলাধার সংলগ্ন বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মাটি রুখাশুখা। ফলে সেচখালের ফাটল বেয়ে জল অপচয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পতিত বা অনাবাদি জমিতেও অনেক জল নষ্ট হয়। জলের অপচয় রুখতে চাষিদের সচেতন হতে হবে। জল অপচয়ের কোনও ঘটনা নজরে পড়লেই দ্রুত গ্রাম পঞ্চায়েত, প্রশাসন বা সেচদপ্তরে জানানোর জন্য চাষিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ