নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ক্ষমতার বলয়ে পা রাখতে না রাখতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে দগ্ধদেহ উদ্ধারকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ জাহেদুর রহমান ওরফে বাপী। জুয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে উশৃঙ্খল হয়ে উঠেছিল জাহেদুর। আর এর জন্যই উত্তরাধিকার সূত্রে বিত্তশালী হলেও ঋণের জালে জড়িয়ে যায় সে। শেষে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে ওঠা ঋণদাতা বিট্টু খেত্রীকেই ডেকে এনে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ খড়ের গাদায় ফেলে পুড়িয়ে দেয়। গত চারদিনের তদন্তপর্বে এমনই সব তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের সামনে। তাঁদের বক্তব্য, জাহেদুর রাজনীতির পাশাপাশি অনেক অপকর্মে জড়িয়ে গিয়েছিল। তাতেই গলা পর্যন্ত ঋণগ্রস্থ হয়ে যায়। আর সেই সঙ্কট কাটাতেই শেষমেষ ঋণদাতা বিট্টুকে খুনের ছক কষে সে। রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতারের বক্তব্য, বিট্টু খেত্রীর সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছিল জাহেদুরের। তার সবরকম সম্ভাবনা, কারণগুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেরায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যেগুলি যাচাই করা হচ্ছে। হেমতাবাদ ব্লকের দক্ষিণ ধোঁয়ারই, ভাতসিয়া এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত জাহেদুর। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদেও ছিল। তার প্রথম স্ত্রী তোহরা খাতুন বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন ২০১৮ সাল থেকে। আড়াই বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরে বিয়ে হয় দোলেনা খাতুনের সঙ্গে। তিনিও ২০২৩ সাল থেকে বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। আর স্ত্রীদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নিয়েই দিন দিন জাহেদুর প্রভাব বাড়াতে থাকে। সঙ্গে নানা অপকর্মে লিপ্ত হতে থাকে সে। অনলাইন জুয়া সহ নানা ক্ষেত্রে তার বিপুল অর্থহানি হয়। সে জন্য বিট্টুর থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও এক ভাইয়ের থেকে সর্বমোট ১৭ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। যার একাংশ শোধ করলেও সিংহভাগ টাকা সে জোগাতে পারেনি।



