রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে গত রবিবার লন্ডনের পথে নামলেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। ৫৭তম রথযাত্রা উৎসব (ফেস্টিভ্যাল অব চ্যারিয়টস) উপলক্ষ্যে আনন্দে মাতলেন ভক্ত-পুণ্যার্থীরা। উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার কুমারণ পেরিয়াস্বামী।
ইউরোপের অন্যতম বড়ো রথযাত্রার অংশ হতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন। লন্ডনের পার্ক লেন থেকে ট্রাফালগার স্কোয়্যার পর্যন্ত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ নিয়ে যাওয়া হয়। রথের রশি টানতে ভক্তদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রত্যেকের মুখে ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র। সব মিলিয়ে মধ্য লন্ডনের রাস্তায় এক অদ্ভূত আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে যেন এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ট্রাফালগার স্কোয়্যার। কীর্তনের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় ওড়িশি নৃত্যের আয়োজন করা হয়। সঙ্গে ছিল শিক্ষামূলক প্রদর্শনী। ১৬ হাজার প্লেটের বেশি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। লন্ডন রথযাত্রা ফেস্টিভ্যাল অব চ্যারিয়টসের কো-অর্ডিনেটর তিতিক্ষু দাস বলেন, ‘লন্ডনের মানুষের জন্য হরেকৃষ্ণ আন্দোলনের উপহার এই রথযাত্রা। তীব্র গরম থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেন ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এসেছিলেন। গ্রীষ্মকালে ব্রিটেনজুড়ে এই উৎসব পালন করা হবে।’
৫ হাজার বছর আগে ওড়িশার পুরীতে রথযাত্রার সূচনা হয়। প্রাচীন এই উৎসবকে ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষের কাছে নিয়ে যান ইসকন প্রতিষ্ঠাতা ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। ১৯৬৭ সালে সান ফ্রান্সিস্কোয় রথযাত্রা পালন করা হয়। এটাই ছিল ভারতের বাইরে আয়োজিত প্রথম রথযাত্রা। পরে ১৯৬৯ সালে লন্ডনে প্রথমবার জগন্নাথের রথের রশিতে টান পড়ে।