সংবাদদাতা, কাঁথি: ভগবানপুরের বিভীষণপুর পঞ্চায়েতের তাঙ্গুড়িয়ায় কয়েকশো বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রী কিশোর রায় জিউয়ের রাস উৎসব মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে সাতদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। উৎসব ঘিরে তাঙ্গুড়িয়া সহ আশপাশের গ্রামের মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। উৎসব প্রাঙ্গণ আলোকমালায় সেজে উঠেছে।
মঙ্গলবার শোভাযাত্রা সহ নামসংকীর্তনের মাধ্যমে মাহেন্দ্রক্ষণের সূচনা হয়েছিল। সন্ধ্যায় রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন চৈতন্যপুর গৌড়ীয় মঠের মহারাজ শ্যামানন্দ দাস অধিকারী। সেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গৌড়ীয় মঠ সম্প্রদায় রাধাকৃষ্ণের লীলাকীর্তন পরিবেশন করে। এরপর রাসমঞ্চে অষ্টসখী সহ রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ তোলা হয়। বুধবার অষ্টমপ্রহরের শুভারম্ভ হয়। বৃহস্পতিবার অষ্টমপ্রহরের সমাপ্তি ও লীলাকীর্তন হবে। ক’দিন ধরে হরির লুট হবে।আঁকা ও আবৃত্তি, অঙ্ক দৌড়, কুইজ ও নৃত্য প্রতিযোগিতা আছে। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যশিবির আয়োজিত হবে। সোমবার যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে। রবি ও সোমবার যাত্রানুষ্ঠান রয়েছে।
উৎসব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুখেন রায় ও কার্তিকচন্দ্র কর, সভাপতি বিনয়কুমার দে, সহ-সভাপতি তপনকুমার দাস, কোষাধ্যক্ষ সুকুমার দে এলাকাবাসীকে উৎসবে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মোগল আমলে রাজা যাদবরাম রায়চৌধুরী জমিদার হিসেবে ভুঁইয়ামুঠা পরগনার বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন। কথিত আছে, একদিন এক সন্ন্যাসী রাজবাড়ির বটবৃক্ষের নীচে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ নিয়ে আসেন। রাজা যাদবরাম ধর্মপরায়ণ হওয়ায় সন্ন্যাসীকে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ রাজবাড়িতে নিয়ে আসতে বলেন। সেখানে শ্রীকৃষ্ণকে ক্ষীরের ভোগ নিবেদন করা হয়। একদিন সন্ন্যাসী রাজবাড়ি ছেড়ে যেতে চাইলেও প্রভু যেতে চাননি। তখন নাকি ওই সন্ন্যাসী প্রভুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যান। রাতেই রাজা শ্রীকৃষ্ণের স্বপ্নাদেশ পান। সেইমতো মন্দির গড়ে ওই বিগ্রহকে প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিগ্রহই কিশোর রায় জিউ নামে পরিচিত। এখনও প্রতিদিন মনস্কামনা পূরণের লক্ষ্যে বহু মানুষ কিশোর রায় জিউয়ের কাছে ক্ষীর নিবেদন করে। উৎসবের সময় প্রচুর ক্ষীর নিবেদন করা হয়।