Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে উদ্যোগী শিলিগুড়ি পুরসভা, এবার তৈরি করা হবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ডেমোলিটেশন টিম

বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে উদ্যোগী শিলিগুড়ি পুরসভা, এবার তৈরি করা হবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ডেমোলিটেশন টিম
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে আরও সক্রিয় হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরসভা। তারা এজন্য গঠন করবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ডেমোলিটেশন টিম (আরএডিটি)। একইসঙ্গে ছোট বাড়ি তৈরির অনুমোদন প্রক্রিয়াও করবে সরলীকরণ। এজন্য তারা ফাস্ট ট্র্যাক অ্যাপ্রুভাল সিস্টেম (এফটিএএস) চালু করতে চলেছে। ইতিমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শীঘ্রই বিষয়গুলি কার্যকর করা হবে বলে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

শিলিগুড়ি শহরে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ অনেকদিনের। অভিযোগ, বহুতল বাড়ি ও মার্কেট কমপ্লেক্সে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। নকশায় গ্যারেজ ঘরের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেখানে গড়া হয়েছে দোকান ঘর। এছাড়া সরকারি খাস জমি, রাস্তা ও নিকাশি নালার একাংশ দখল করে বেআইনি দোকান, বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছে পুরসভা। ইতিমধ্যে তারা প্রচুর বেআইনি নির্মাণ ভেঙেছে। তা হলেও বেআইনি নির্মাণে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। 
এর মোকাবিলায় এবার আরএডিটি গঠন করছে পুরসভা। ইতিমধ্যে তারা ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে বিষয়টি ঘোষণা করেছে। পুরসভা সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট টিমে পুরসভার আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনি পরামর্শদাতা সহ ১০-১২ জন পুরকর্মী থাকবেন। টিমের সঙ্গে বেআইনি নির্মাণভাঙার আধুনিক সরঞ্জাম, আর্থমুভার, ভ্যান প্রভৃতি থাকবে। মেয়র গৌতম দেব বলেন, পরিকল্পিত নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণ একটি চ্যালেঞ্জ। তাই অবৈধ নির্মাণ শনাক্তকরণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই আরএডিটি গঠন করা হচ্ছে। শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী করা হবে। 
এদিকে, বাড়ি তৈরির প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পুরসভায় নাগরিকদের একাধিকবার চক্কর কাটতে হয় বলে অভিযোগ। বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। তারা এজন্য এফটিএএস চালু করতে চলেছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০০ বর্গমিটার জমির উপর ছোট বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া সরলীকরণ করতেই এফটিএএস চালু করা হচ্ছে। এজন্য সাইট ইন্সপেকশন এবং ডিড চেকিং টিম পুনর্গঠন করা হবে। বর্তমানে পুরসভায় ৬-৭ জন সাইড ইন্সপেক্টার এবং প্রায় তিনজন ডিড চেকার রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দু’টি পদে আরও এক-দু’জনকে নিয়োগ করা হতে পারে। এছাড়া, বাড়ির প্ল্যানগুলি পাস করার জন্য মাসে দু’টি করে হবে মেয়র পরিষদের (এমআইসি) বৈঠক। 
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক আধিকারিক জানান, এফটিএএস চালুর পর এমআইসি মিটিংয়ের ১৫ দিনের মধ্যে প্ল্যানের অনুমোদন পাবেন বাসিন্দারা। এতে প্ল্যান পাশ নিয়ে বিলম্ব হ্রাস পাবে। বছরে উপকৃত হবেন প্রায় ৫০০ জন আবেদনকারী। এতে বাড়ির প্ল্যান পাশের গতিও বাড়বে। মেয়র বলেন, বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সুবিধা দিতেই সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ