শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: সপ্তমীর রাত। ঘড়ির কাঁটা তখন সওয়া ১টার ঘরে। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে করে ঠাকুর দেখতে যাচ্ছিলেন বারাসতের বাসিন্দা মধুমিতা দে রায়। মধ্যমগ্রামের দোলতলায় একটি নামী আবাসনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই কানে আসে এক মহিলার কাতর চিৎকার। কিছুটা এগিয়ে গেলেও সেই আওয়াজ উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। ফিরে দেখেন, এক মহিলাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নিজেই স্কুটার থামিয়ে নেমে পড়েন মধুমিতা। রাস্তার ধারে টাঙানো ব্যানার খুলে ঢেকে দেন নির্যাতিতার বিবস্ত্র শরীর। তাঁর চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন দুই যুবক। স্বামী ও তাঁদের সাহায্যে অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। সপ্তমীর রাতে মধ্যমগ্রামের দোলতলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সুভাষ মণ্ডল। সে এখন পুলিশ হেপাজতে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। মধুমিতার কথায়, প্রথমে চিৎকার শুনতে পেলেও স্কুটার নিয়ে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, আর্তনাদ শুনে ফিরে আসেন। তখন দেখেন, রাস্তার ধারে ওই মহিলা বিবস্ত্র অবস্থায় রয়েছেন। এক যুবক তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি মধুমিতা। সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। অভিযোগ, আশপাশের লোকজন কেউই এগিয়ে আসেননি। খানিক বাদে দুই যুবক ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে মধুমিতা ও তাঁর স্বামী ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পালানোর চেষ্টা করে সুভাষ। কিন্তু মধুমিতা, তাঁর স্বামী এবং দুই যুবক তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর নির্যাতিতার শরীর ঢাকার ব্যবস্থা করেন মধুমিতা। রাস্তার ধারে থাকা পুজোর বিজ্ঞাপনের একটি ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেন মহিলার শরীর। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করেছে। যে সময় উৎসবের আনন্দে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা থাকার কথা, সেই রাতে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মধ্যমগ্রামে।
মধুমিতার বক্তব্য, ওই মহিলা মানসিকভাবে অসুস্থ। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জানান, ওই মহিলা প্রায়ই চিৎকার করেন। পুলিশও একই কথা বলেছে বলে দাবি মধুমিতার। সেই থেকেই তাঁর আশঙ্কা, মহিলার সঙ্গে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও অতীতে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়
পুলিশ। মধুমিতার কথায়, বিপদের সময় আশপাশে মানুষ থাকা সত্ত্বেও কেউ এগিয়ে না এলে আক্রান্তের অসহায়তা আরও বেড়ে যায়। একজন মহিলা হয়ে অন্য এক মহিলার উপর এমন অত্যাচার মেনে
নেওয়া যায় না। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চান মধুমিতা। পাশাপাশি, তদন্তে পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন মধুমিতা। তাঁর দাবি, দোলতলা সর্বোপরি মধ্যমগ্রামে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে জনবহুল রাস্তা এবং আবাসন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার হলে এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো বা দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



