সংবাদদাতা, বারুইপুর: এক নাবালিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করল বারুইপুর আদালত। বুধবার বারুইপুরের এডিজে আদালতের বিচারক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এই রায় দেন। এদিন, সরকারি আইনজীবী অতসী হালদার সাহা বলেন, আড়াই বছরের মাথায় কুলতলির বাসিন্দা অভিযুক্ত অমর দাসকে সাজার পাশাপাশি ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে এক বছরের জেল ও নির্যাতিতাকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কুলতলির বাসিন্দা অমর দাস বিবাহিত। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর স্ত্রী ছেড়ে চলে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে হুগলি জেলার বাসিন্দা ১৪ বছরের নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। পুলিসের তদন্তে জানা যায়, মেয়েটির বাবা বকেছিল। তাই সে পালিয়ে যায়। হুগলির কোনও একটি স্টেশনে বসে থাকতে দেখে অভিযুক্ত অমর দাস তার সঙ্গে আলাপ জমায়। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তারপরে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু কুলতলিতে নয়, পুরীতে দিদি-জামাইবাবুর বাড়িতেও নাবালিকাকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানেও ধর্ষণ করে। এরপর বাড়িতে ফিরে এসে ধর্ষণ করে নাবালিকাকে পতিতাপল্লিতে বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কুলতলির এক সমাজকর্মী শক্তিপদ মণ্ডল বিষয়টি জানতে পেরে কুলতলি থানায় ফোন করে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কুলতলি থানার পুলিস। সরকারি আইনজীবী অতসী হালদার সাহা বলেন, আদালতে সাতজন সাক্ষী দেয়। যদিও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তের দিদি ও জামাইবাবু বেকসুর খালাস পায়।