Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কসবার অভিজাত হোটেলে ধর্ষণ! ধৃত অভিযুক্ত ‘বন্ধু’

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে হয়েছিল পরিচয়। গড়ে ওঠেছিল বন্ধুত্ব। সেখান থেকে প্রেম। তরুণ-তরুণী দুজনেই বিদেশে বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত।

কসবার অভিজাত হোটেলে ধর্ষণ! ধৃত অভিযুক্ত ‘বন্ধু’
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে হয়েছিল পরিচয়। গড়ে ওঠেছিল বন্ধুত্ব। সেখান থেকে প্রেম। তরুণ-তরুণী দুজনেই বিদেশে বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত। দুজনে একেসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়। তরুণ প্রতিশ্রুতি দেয়, ওই তরুণীকে বিয়ে করার।  চীনের সাংহাইতে নামী সংস্থার কর্মরত ওই তরুণের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভারতে এসে কসবায় বাইপাস লাগোয়া একটি হোটেলে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের কেস রুজু করে অভিযুক্ত যুবক সায়ন রায় চৌধুরিকে পাটুলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বেহালা মহিলা থানা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নামী একটি কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। তরুণী একই বিষয় নিয়ে পাশ করেছেন। দুজনেই কলকাতার বাসিন্দা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণীকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান ওই তরুণ। তিনি তাতে সাড়া দেন। মোবাইল নম্বর আদানপ্রদানের পর দুজনের নিয়মিত কথা হত।  তদন্তে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা দুবাইতে বহুজাতিক কোম্পানিতে ম্যানেজমেন্ট পদে রয়েছেন। তরুণ সাংহাইতে উচ্চ পদে চাকরি করেন। ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হত। দুজনেই বছরের বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকেন। তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের পর অভিযুক্ত দুবাইতে গিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিলেন। সাংহাইতে ওই তরুণের কাছেও যায় নির্যাতিতা। পাটুলির বাসিন্দা ওই তরুণ আশ্বস্ত করেন, তাঁকে বিয়ে করার। অভিযোগকারিনীর দাবি, বিদেশে থাকার সময়  সায়ন জোর করে তাঁর সঙ্গে  বেশ কয়েকবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর একসঙ্গে মালেশিয়া, থাইল্যন্ড ,সিঙ্গাপুর বেড়াতে যান। মাস তিন আগে দুজনেই কলকাতায় ফেরেন। অভিযোগ, আলোচনার নাম করে অভিযুক্ত গত জুলাই মাসে ওই তরুণীকে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি হোটেলে ডেকে পাঠান। অভিযোগকারিনীর দাবি, সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। তারপর থেকেই তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সায়ন।  তরুণী ফোন করলে ধরতেন না। যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। তরুণী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর পাটুলি এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতেও যান তরুণী। কিন্তু তাঁকে সেখানে পাননি। স্থানীয় পাটুলি থানাতে প্রথমে বিষয়টি জানান। থানার তরফে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, পাওয়া যায়নি। এরমাঝে সায়ন সাংহাই চলে যান। সরশুনা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী অভিযোগ করেন বেহালা মহিলা থানায়। তার ভিত্তিতে ধর্ষণের কেস রুজু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত বিদেশ থেকে ফিরে পাটুলির বাড়িতে রয়েছে। এরপরই পুলিশের টিম বুধবার রাতে বাড়িতে হানা দিয়ে সায়নকে গ্রেপ্তার করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ