শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: যে মেয়ের ছোটবেলা কেটেছে অশোকনগরের চেনা গলিতে খেলাধূলা করে। প্রশাসনিক দায়িত্বে এবার সেই বাড়ির একেবারে পাশের মহকুমাতেই তাঁর নতুন ঠিকানা হল। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। কর্মক্ষেত্র হল একেবারে হাতের নাগালে। ইউপিএসসিতে সর্বভারতীয় স্তরে ৩৪৬ র্যাংক করে অশোকনগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রততী দত্ত হলেন বনগাঁর মহকুমা শাসক(এসডিও)। এই সাফল্যে গর্বিত মা-বাবা খুশি এই কারণে যে, মেয়ে বাড়ির কাছাকাছিই থাকছে।
ব্রততী দত্ত সাধারণ পরিবারের মেয়ে। ছোটো থেকেই মেধাবী। ছাত্রাবস্থা থেকেই লক্ষ্য ছিল, প্রশাসনিক পদে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে ইউপিএসসিতে বসেন। প্রথমবার সাফল্য পাননি। তবে দমেও যাননি। দ্বিতীয়বার ২০২৩ সালে বাড়তি জেদ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন। ফলপ্রকাশ হওয়ার পর দেখা গেল, পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সর্বভারতীয় স্তরে ৩৪৬ র্যাংক করেছেন। তারপর বনগাঁ মহকুমার প্রশাসনিক দায়িত্ব।
জানা গিয়েছে, ব্রততীদেবী শুধু পড়াশোনাতেই একাগ্র নন, চাকরির লক্ষ্য স্থির করার ক্ষেত্রেও রেখেছিলেন অনড় মনোভাব। হাবড়ার বাণীপুর জওহর নবোদয় আবাসিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। দ্বাদশের পর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক হন। তারপর ওড়িশায় সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নিয়ে স্নাতকোত্তর। সেখানে কৃতিত্বের ছাপ রাখেন। পান স্বর্ণপদক। পড়াশোনার পাশাপাশি তখন থেকেই প্রশাসনিক পদে চাকরি পেতে শুরু করেন প্রস্তুতি। প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন যখন তখন তিনি স্নাতকোত্তরের ক্লাস করছিলেন। ফলে ফল কাঙ্ক্ষিত হয়নি। দ্বিতীয়বার আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের ফুড সেফটি অফিসার হিসাবেও চাকরি করেছেন। বড়ো কোনো কোচিংয়ের উপর নির্ভর না করে নিজে পড়াশোনা করার উপর ভরসা রেখেছিলেন। তবে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সত্যেন্দ্রনাথ টেগোর সিভিল সার্ভিস স্টাডি সেন্টারের ভূমিকা আছে।
সদ্য বনগাঁর এসডিও হয়েছেন ব্রততীদেবী। বললেন, ‘এই সবে অর্ডার হয়েছে। এ নিয়ে পরে কথা বলব।’ ব্রততী দত্ত। -ফাইল চিত্র