নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের বিতর্কে শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতা তথা ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রঞ্জন শীলশর্মা। সোমবার শিলিগুড়ি শিক্ষাজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে রীতিমতো দাদাগিরি করার অভিযোগ উঠেছে এই তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। এমনকি চেয়ারম্যানকে টেবিল চাপড়ে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপকুমার রায়। শিক্ষক রঞ্জনের এহেন কাণ্ড তিনি তাঁর উপর মহলে জানাবেন বলেও জানিয়েছন।
পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সূত্রে দাবি, খড়িবাড়ি সার্কেলের এক শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে চার মাসের মধ্যে দুবার বদলি, প্রাথমিকের শিক্ষক দিয়ে হাইস্কুলের ক্লাস করানো, পিএফের টাকা ডিজিটালাইজেশন সহ একাধিক দাবিতে এক প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সেইমতো এদিন মিছিল করে সংসদে গিয়ে শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপকুমার রায়কে ঘেরাও করেন সদস্যরা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রঞ্জন। আলোচনার মাঝেই চেয়ারম্যান ও রঞ্জন শীলশর্মা তীব্র বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। টেবিল চাপরে রঞ্জন শীল শর্মা চেয়ারম্যানকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। পাল্টা চেয়ারম্যান রঞ্জনকে শান্ত হতে বলেন। তাতে আরও তেতে যান এই তৃণমূল কাউন্সিলার। যদিও সহ শিক্ষক ও সংসদের কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রঞ্জন শীলশর্মার অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে এসআইরা নাকি শিক্ষকদের বদলি করে দিচ্ছে। প্রাইমারির শিক্ষকদের দিয়ে হাইস্কুলের ক্লাস করাচ্ছেন। নিজের ইচ্ছেমতো সব চালাচ্ছেন। আমাদের দাবি অবিলম্বে পূরণ না হলে আবার প্রতিবাদে নামব। যদিও চেয়ারম্যানকে ‘অপমান’ করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি চেয়ারম্যানকে অপমান করেননি।
যদিও নিয়মবহির্ভুত বদলির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে এভাবে দপ্তরে এসে এহেন আচরণকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না বলে জানান। চেয়ারম্যান বলেন, উনি যেমন ব্যবহার করেছে, তা একজন শিক্ষকের কাছে থেকে কাম্য নয়। যে ব্যবহার তিনি করেছেন, তাতে অপমান বোধ করছি। আমি অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে বদলি ও কাজ সংক্রান্ত যা হয়েছে, সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। তবুও, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে।- নিজস্ব চিত্র।