Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি তৈরির অনুমোদন মিলছে না, বিপাকে রানিগঞ্জের মানুষ

বাড়ি তৈরির অনুমোদন মিলছে না, বিপাকে রানিগঞ্জের মানুষ
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, রানিগঞ্জ: শতাব্দী প্রাচীন রানিগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা পড়েছেন মহাবিপদে। লক্ষাধিক মানুষের বসত ভিটে এই শহরে। বর্তমানে যৌথ পরিবার ভাঙছে। তাই প্রয়োজন নতুন বাড়ির। কিন্তু, টাকা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না। কারণ নতুন করে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করছে না পুরসভা। সমস্যা নিয়ে বাসিন্দারা চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক থেকে এমপিকে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধসপ্রবণ এলাকা দাবি করে বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। আন্দোলনের সুর চড়াতে রানিগঞ্জ বাঁচাও মঞ্চ তৈরি হয়েছে। তারাই ইসিএলের কাছে প্রকৃত অবস্থানের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল।

Advertisement

উত্তর দিয়েছে ইসিএলে। রানিগঞ্জ বাঁচাও কমিটি সোমবার সেই চিঠি পেয়েছে। সেখানে ইসিএলের চিঠি পড়ে রীতিমতো উদ্বেগে সকলে। তাদের দাবি, রানিগঞ্জ কোলফিল্ড এলাকার মাটির তলার বিস্তীর্ণ অংশ জলের উপর ভাসছে। কিছু অংশে মাটির নীচে আগুন জ্বলছে। এই পরিস্থিতি বদল করার কোনও বৈজ্ঞানিক উপায় নেই। একমাত্র উপায়, ওই এলাকা থেকে অন্যত্র সরে যেতে হবে। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে স্থানীয় প্রশাসন নতুন বাড়ি তৈরির অনুমতি দিচ্ছে না। এই চিঠি শহরবাসীর কাছে যথেষ্ট হতাশার। তাহলে কি প্রিয় শহরে নতুন বাড়ি তৈরির কোনও উপায়ই নেই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন খনি শহরের বাসিন্দারা।
রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার মনে হয়, ইসিএল যে সার্ভের উপর ভিত্তি করে এই কথা বলছে, তা বহু পূর্বে করা হয়েছে। নতুন করে বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দিয়ে সার্ভে করিয়ে পরিস্থিতি যাচা‌ই করা প্রয়োজন। রানিগঞ্জে বহু প্রতিষ্ঠিত ব্য‌বসায়ী ও ব্যবসায়িক সংগঠন রয়েছে। তাঁরা উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের নজরে আনতে পারেন। সর্বোচ্চ স্তর থেকেই এই সমস্যা মেটানো সম্ভব।
প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের কয়লা উত্তোলন করা থেকেই রানিগঞ্জের বিকাশ শুরু হয়। রাজ্যে যে ক’টি পুরনো পুরসভা ছিল, তারমধ্যে অন্যতম রানিগঞ্জ পুরসভা। পরে অবশ্য তা আসানসোল পুরনিগমের সঙ্গে মিশে যায়। রানিগঞ্জ শহরে মহাবীর কোলিয়ারিতে ভয়ঙ্কর খনি দুর্ঘটনা ছাড়া কোনও বড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও ‘ধসপ্রবণ এলাকা’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে এখানে কোনও নতুন বাড়ি তৈরির অনুমতি মিলছে না। শহরের যে প্রান্তেই মানুষ বাড়ির প্ল্যান পাশের জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের জানানো হচ্ছে জায়গাটি ধসপ্রবণ। তাই এলাকার ৩০০ মিটারের মধ্যে মাটি খননের অনুমতি মিলবে না।
এই অবস্থায় রানিগঞ্জ বাঁচাও মঞ্চের অভিযোগ, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা। পুরো এলাকাটি কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নতুন করে বসতি গড়তে দেওয়া হচ্ছে না। ই঩সিএল চাইছে, যাতে বাসিন্দারা নিজে থেকেই পুরনো শহর ছেড়ে চলে যান। সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম ঘটক বলেন, এনিয়ে আমাদের লড়াই চলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ