Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উৎসবের মরশুমে পানীয় জলের হাহাকার রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ায়

শিল্পাঞ্চলে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর উদ্বোধন। শারদীয়া উৎসবে গা ভাসিয়েছে আট থেকে আশি।

উৎসবের মরশুমে পানীয় জলের হাহাকার রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ায়
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর উদ্বোধন। শারদীয়া উৎসবে গা ভাসিয়েছে আট থেকে আশি। এমন উৎসবমুখর পরিবেশেও জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা পানীয় জল নিয়ে প্রবল সঙ্কটে পড়েছেন। পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেককে কুয়োর জল খেতে হচ্ছে। তার জেরে বুধবার প্রবল বিক্ষোভে রানিগঞ্জ-জামুড়িয়া রাজ্য সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ রইল। রানিগঞ্জের রানিসায়েরে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছের ডাল, পুলিশের গার্ডরেল রাস্তায় নামিয়ে দেন। জলের পাত্র নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনাস্থলে আসেন আসানসোল পুরসভার রানিগঞ্জ বরো চেয়ারম্যান মোজাম্মেল শাহাজাদা। তিনি পর্যাপ্ত জলের ট্যাঙ্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ ওঠে।

Advertisement

শুধু এদিনই নয়, কেন্দা থেকে তপসী দফায় দফায় জল না পেয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। পুজোর মুখেও পুরসভা ও প্রশাসন কেন পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পারল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই জল সঙ্কটের কারণ খুঁজতে গিয়ে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর এবং পুরসভার দ্বন্দ প্রকাশ্যে এসেছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের দপ্তরের কাজ গ্রামীণ এলাকায় জল দেওয়া। এই এলাকাটি পুরসভার। তাও আমরা জল দিচ্ছি। অনেক সময় আমাদের জলের সংযোগের মুখে পাম্প বসিয়ে জল তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে জলসঙ্কট আরও বাড়ছে। যেসব জায়গায় পাইপের মাধ্যমে জল পাঠানো যাচ্ছে না, সেখানে আমরা ট্যাঙ্কারে করে সরবরাহ করছি।
যদিও দপ্তরের এই দাবি মানতে চাননি বরো চেয়ারম্যান মোজাম্মেল শাহাজাদা। তিনি বলেন, রানিসায়ের, আমরাসোতা ও মঙ্গলপুরে গ্রামীণ অঞ্চল থাকায় বহু দশক ধরে পিএইচই জল দিচ্ছে। হীরাপুর থানা এলাকার কালাঝরিয়ায় জলপ্রকল্পের সেতু ভেঙে পড়ায় মূলত সমস্যা হয়েছে। কাউকে না জানিয়ে পুজোর আগে রানিসায়েরের ওভারহেড ট্যাঙ্কার পরিষ্কার করতে গিয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে। এলাকায় তিন ট্যাঙ্কার জল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাই অবরোধ উঠেছে।
রানিগঞ্জের রানিসায়ের, মঙ্গলপুর, জামুড়িয়ার কেন্দা, ভূতবাংলো, তপসী, চাকদোল, খাসকেন্দা, ডোবরানা এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। পিএইচইর ওই প্রকল্প থেকে এইসব এলাকায় জল আসত। এখন অন্য‌ প্রকল্প থেকে জল দেওয়া হচ্ছে। ফলে দু’-তিনদিন পর জল দেওয়া হয়। জলের চাপও নেই। তাই মানুষ পর্যাপ্ত জল পাচ্ছে না।  জলের যে ট্যাঙ্কার আসছে, তা নেহাতই কম। ফলে মানুষের বারবার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়কে জলের পাত্র নিয়ে নেমে অবরোধ করছেন। পুজোর আগেও মানুষের কষ্টের সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ মাহাত, তুলসী হিড়রা বলেন, পানীয় জল সরবরাহ করার দায়িত্ব কার, তা আমাদের জেনে লাভ নেই। আমার পানীয় জল চাই। না হলে অনেক বড় আন্দোলন হবে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রকাশ মাহাত বলেন, রানিসায়ের গ্রাম, মাহাত পাড়া, কর্মকার পাড়ার লোকজন অবরোধ করেছিল। বহু বছর ধরেই পিএইচই জল সরবরাহ করে আসছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, দপ্তরের ঠিকাদাররাও কর্তৃপক্ষের কাজে বিরক্ত। তাঁদের দাবি, লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে দপ্তরের। তারা এখনও তা পেমেন্ট না করায় মঙ্গলবার ঠিকাদাররা আসানসোলে পিএইচইর অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।   -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ