সংবাদদাতা, সিউড়ি: দু’ দিন পরেই দীপাবলি। আলোর উৎসবে প্রদীপ জ্বালানো কিংবা বৈদ্যুতিক আলোয় বাড়ি সাজানোর রীতি অনেক দিনের। কিন্তু ইদানিং এক অবাঙালি সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে বাঙালিরা। বাড়ির দুয়ারে বিভিন্ন নকশার রঙ্গোলি আঁকার চল বেশ বেড়েছে বাঙালিদের মধ্যে। কখনও ময়ূরের নকশা, তো কখনও ফুলের নকশা সঙ্গে প্রদীপের আলোর রোশনাইয়ে সাজিয়ে তোলা হয় বাড়িঘর। ফলে চাহিদা বাড়ছে রঙ্গোলি আঁকার সামগ্রীর। সমাজ মাধ্যমের যুগে বাঙালি-অবাঙালি সংস্কৃতির ফারাক মুছে গিয়েছে। শহরের বিক্রেতাদের থেকে জানা গিয়েছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে এই চল বেড়েছে। সিউড়ি শহরে রঙ্গোলির যে রং সেটি বিভিন্ন দামের রয়েছে। ৬০ টাকা থেকে শুরু ১২০ টাকা পর্যন্ত নানা দরের রঙ্গোলি বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে রঙ্গোলি দেওয়ার জন্য দশ রকমের রঙের সম্ভার থাকছে। এছাড়া ডিজাইন করার জন্যও নানান সামগ্রী পাওয়া যায়। সেগুলিও বিক্রি হচ্ছে ভালোই। বিক্রেতারা জানান, কালীপুজোর প্রায় পাঁচদিন আগে থেকেই বিক্রিবাটা শুরু হয়ে যায়। মূলত ১৮ থেকে ৩০ বছরের মেয়েদের এই শখ বেশি। তবে অন্যান্য বয়সের ক্রেতা রয়েছেন। রঙ্গোলির সামগ্রীর পাশাপাশি নানা রঙের প্রদীপ, ডিজাইনার মোমবাতির চাহিদাও বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, লাইটিং প্রদীপ, অভিনব ডিজাইন করা প্রদীপ, রঙিন প্রদীপের চাহিদাও তুমুল। মূলত, রঙ্গোলির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা হয়। সেই ডিজাইনের মধ্যে নানা ধরনের প্রদীপ দেওয়া হয়। যাতে সেটি আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সিউড়ি শহরের বিক্রেতা অক্ষয় মালাকার, জয়দীপ দাসরা বলেন, গত কয়েক বছরে এই চাহিদা বেড়েছে। আমরাও ক্রেতাদের চাহিদা মতো সামগ্রী আনিয়ে রাখছি। আগে এর এত চল ছিল না। তাঁরা আরও জানান, এবছর রঙ্গোলির সঙ্গে মাটির প্রদীপের চাহিদাও ভালো। ক্রেতা পল্লবী দত্ত, অঙ্কিতা ঠাকুর, সুস্মিতা দাসরা জানান, দীপাবলিতে আলো দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে তোলা হয়। বাড়িকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতেই রঙ্গোলি দিয়ে থাকি।



